ময়দানের সিএবি লবির লড়াই এবার পাল্টাতে চলেছে রাজ্য রাজনীতির চেনা সমীকরণ। বুধবার নবান্নে রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী ডঃ ইন্দ্রনীল খাঁয়ের সঙ্গে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের হাই-প্রোফাইল বৈঠক ঘিরে এখন এমনই এক মস্ত বড় রাজনৈতিক বার্তা ভাসছে ময়দান থেকে নবান্নের অলিন্দে।
আরও পড়ুন সুজিত-দিলীপ-উজ্জ্বলের পর এ বার উদয়ন, এক মাসে গ্রেফতার রাজ্যের চার প্রাক্তন মন্ত্রী!
রাজনীতি মহলের মতে, মহারাজ আর ক্রীড়ামন্ত্রীর এই হাসিমুখের বৈঠক আসলে শুধু খেলার মাঠের আলোচনা নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক রসায়ন, যা গত কয়েক বছর ধরে তৈরি করা বিজেপি শিবিরের (BJP) যাবতীয় জল্পনা ও বয়ানকে এক ঝটকায় মাঠের বাইরে বাউন্ডারি পার করে দিল।
ঘটনার সূত্রপাত দিনকয়েক আগে। সিএবি-র প্রাক্তন সভাপতি অভিষেক ডালমিয়া নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীকে একটি বিস্ফোরক খোলা চিঠি লেখেন। সেই চিঠিতে সরাসরি কারও নাম না নিলেও, ময়দানকে দুর্নীতিমুক্ত করার ডাক দেন তিনি। বয়স ভাঁড়ানো, আর্থিক তছরুপ থেকে শুরু করে টাকা নিয়ে ক্রিকেটে সুযোগ করে দেওয়ার মতো মারাত্মক সব অভিযোগ তোলেন অভিষেক। ডালমিয়া-পুত্রের এই চিঠির পর ক্রীড়ামন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ-ও আশ্বাস দিয়ে বলেন, "খেলার ময়দানে শুধু খেলাই হবে।" আমরা জানি, ময়দানে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় এবং অভিষেক ডালমিয়া দুটি আলাদা লবি হিসেবেই পরিচিত। ফলে এই চিঠির পর যখন সিএবি-র অন্দরে ক্ষমতার রাশ নিয়ে টানাপোড়েন অন্য মাত্রা নিচ্ছিল, ঠিক তখনই ঘটল এক ঘটনা।
অভিষেকের চিঠির ঠিক দু-দিনের মাথায়, বুধবার একধাপ এগিয়ে খোদ সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় গিয়ে হাজির হন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর দপ্তরে। বেঙ্গল টি-২০ লিগের ফাইনালের আমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি সিএবি সংক্রান্ত নানা বিষয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়। আর মহারাজের এই একটি সাক্ষাৎ যেন এতদিন ধরে তৈরি করা বিজেপির সমস্ত রাজনৈতিক তত্ত্বে এক ঝটকায় জল ঢেলে দিল!
একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। আপনাদের অজানা নয়, গত কয়েক বছর ধরে দাদাকে নিয়ে বিজেপি শিবির কী না বলেছে! এমনকি, তিনি তিনি বিজেপিতে যোগ দিতে অস্বীকার করায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে তাঁকে বিসিসিআই সভাপতি পদ থেকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। সৌরভকে হেয় প্রতিপন্ন করতে এবং তাঁকে কোণঠাসা করার কোনো সুযোগই এতদিন হাতছাড়া করেনি বিজেপি শিবির।
বিজেপি এতদিন সৌরভকে নিয়ে যে নেতিবাচক বয়ান তৈরি করার চেষ্টা করছিল, ক্রীড়ামন্ত্রীর ঘরে সৌরভের এই আত্মবিশ্বাসী হাজিরা এবং হাসিমুখের উপস্থিতি সেই সবকিছুর ওপর যেন এক বিরাট প্রশ্ন চিহ্ন। এই বৈঠক বুঝিয়ে দিল, বিরোধীরা দাদাকে নিয়ে যতই রাজনীতি করার চেষ্টা করুক না কেন, রাজ্যের নতুন প্রশাসনিক প্রধান বা ক্রীড়ামন্ত্রীর সাথে মহারাজের রসায়ন ও যোগাযোগ এখনো কতটা মজবুত।
স্বাভাবিকভাবেই, বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে সৌরভের এই দেখা করাটা বিজেপি শিবিরের এতদিনের সমস্ত জল্পনা আর কথার ওপর এক বিরাট প্রভাব ফেলবে। অতীতে দাদাকে নিয়ে তারা যে রাজনৈতিক সমীকরণই খাড়া করার চেষ্টা করে থাকুক না কেন, এই আলোচনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ময়দানের লবির লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জল কোন দিকে গড়ায় তা তো সময়ই বলবে, তবে সৌরভের এই একটি চাল যে বিজেপির এতদিনের সেই সমস্ত রাজনৈতিক অপপ্রচার আর বয়ানকে এক নিমেষে ফিকে করে দিল, তা কিন্তু এখন একেবারে পরিষ্কার!
-দিশা দাস