তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে একের পর এক দুর্গ। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে রাজ্যের চার-চার জন হেভিওয়েট প্রাক্তন মন্ত্রী এখন শ্রীঘরে। সুজিত বসু, দিলীপ মণ্ডল কিংবা উজ্জ্বল বিশ্বাসের পর এ বার পুলিশের জালে দিনহাটার উদয়ন গুহ।
আরও পড়ুন বিজেপি আসতেই পাহাড়ে মহা ধস: দিদির হাত ছেড়েছিলেন আগেই, এবার শুভেন্দুর চাপের মুখে জিটিএ ছাড়লেন অনীত!
বিধানসভা ভোটে বিপর্যয়ের পর রাজনৈতিক চাপ তো ছিলই, তার ওপর ঘরের পুলিশের এই কামড় তৃণমূল শিবিরের অন্দরে বড়সড় অস্বস্তি তৈরি করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন উদয়ন। তারপর থেকেই কোচবিহার ছেড়ে কলকাতায় চলে আসেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরে কার্যত বেপাত্তা ছিলেন দিনহাটার এই দাপুটে নেতা। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। তোলাবাজি এবং দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে শেষ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন তিনি।
চার প্রাক্তন মন্ত্রীর এই বন্দীর খতিয়ান মাত্র এক মাসের। যার শুরুটা হয়েছিল মে মাসের মাঝামাঝি।
১১ মে (সুজিত বসু): পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলা এবং করোনাকালে রেস্তোরাঁ ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দমকলের প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে প্রথম গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি।
২৭ মে (দিলীপ মণ্ডল): সুজিত-কাণ্ডের ঠিক ১৬ দিনের মাথায় নাটকীয় মোড় নেয় রাজ্য রাজনীতি। ওড়িশার পুরীর একটি হোটেল থেকে রাজ্য পুলিশের জালে ধরা পড়েন প্রাক্তন পরিবহন রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। তাঁর বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের হুমকি ও উসকানিমূলক মন্তব্য করে পালিয়ে বেড়ানোর অভিযোগ ছিল।
৯ জুন (উজ্জ্বল বিশ্বাস): দিলীপের গ্রেফতারির রেশ কাটতে না কাটতেই নদিয়ায় শোরগোল পড়ে যায়। কৃষ্ণনগরের বাড়ি থেকে সরকারি ত্রাণ সামগ্রী, তথা গরিবের ত্রিপল চুরির অভিযোগে স্থানীয় জনতার ক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস। গণধোলাইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হলে কোতোয়ালি থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে।
১৭ জুন (উদয়ন গুহ): আর আজ, অর্থাৎ ১৭ জুন ধরা পড়লেন তালিকার চতুর্থ উইকেট উদয়ন গুহ।
এই চার হেভিওয়েটের গ্রেফতারির নেপথ্যে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রশাসনিক সমীকরণ উঠে আসছে। সুজিত বসুকে যেখানে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইডি গ্রেফতার করেছে, সেখানে দিলীপ মণ্ডল, উজ্জ্বল বিশ্বাস এবং সর্বশেষ উদয়ন গুহকে ধরল খোদ রাজ্য পুলিশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, একদিকে ভোটের বাজারে ভরাডুবির ধাক্কা, অন্যদিকে খোদ ঘরের পুলিশের এই অতি-সক্রিয়তা, জোড়া ফলায় বিদ্ধ তৃণমূল। একের পর এক হেভিওয়েটের এই পতন আগামী দিনে বাংলার রাজ্য রাজনীতিতে আর কী বড়সড় ওলটপালট আনে, এখন সেটাই দেখার।
-অঙ্কিতা পাল