হাই-প্রোফাইল ‘Z’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা বলয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলার মুখে পড়লেন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক তথা দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ! সোমবার বিকেলের এই নজিরবিহীন ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। তবে ঘটনার পর প্রশাসন ২৪ ঘণ্টাও সময় নেয়নি। মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছে এই ঘটনার মূল দুই অভিযুক্ত যুবক চন্দন সিংহ এবং রবি কয়াল।
আরও পড়ুন কল্যাণের হুঙ্কারের পরেই স্পিকারের দরবারে কাকলি! এবার কি পদ খোয়াবেন শ্রীরামপুরের সাংসদ?
সোমবার বিকেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষ করে বাইরে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার মুখোমুখি হতে যান বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। ঠিক তখনই ভিড়ের মধ্য থেকে আচমকা এক যুবক তাঁকে লক্ষ্য করে সজোরে ডিম ছুঁড়ে মারে, যা সরাসরি কুণাল ঘোষের মাথায় এবং পিঠে গিয়ে লাগে এবং অল্পের জন্য তাঁর বাঁ চোখটি রক্ষা পায়। এই অতর্কিত এবং ন্যাক্কারজনক হামলায় প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে একে নোংরা 'বাঁদরামি' ও 'অসভ্যতা' বলে আখ্যা দেন তিনি। কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, এত বড় কড়া পুলিশি পাহারার মধ্যে ডিমের জায়গায় অনায়াসেই পাথর বা বোমাও থাকতে পারত, আর তাতে তাঁর প্রাণ সংশয় পর্যন্ত হতে পারত।
ঘটনার রেশ এখানেই থামেনি, সোমবার রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও বিস্ফোরক পোস্ট করে তৃণমূল মুখপাত্র দাবি করেন যে, এটি কোনো সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ‘জনরোষ’ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত গভীর চক্রান্ত। তিনি অভিযোগ তোলেন, যে যুবকটি তাঁর দিকে ডিম ছুঁড়েছে সে নাকি কিছুদিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হওয়া সিআইডি (CID) তল্লাশির সময় পুলিশের সাক্ষী বা উইটনেস হিসেবে উপস্থিত ছিল এবং সিজার লিস্টেও (Seizure List) ওই যুবকের সই রয়েছে। বিধায়কের আশঙ্কা, সিআইডি-র সেই সাক্ষীকে ব্যবহার করে হয়তো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির ওপর দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি চালানো হচ্ছিল। নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে তিনি আরও জানান যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনোদিন হেনস্থার রাজনীতি পছন্দ করেন না এবং অতীতে যখন বিজেপি নেতা সজল ঘোষ কিংবা আইনজীবী কৌস্তুভ বাগচীকে পুলিশ হেনস্থা করেছিল, তখন দলের পদে থেকেও তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সরব হয়েছিলেন।
সোমবার রাতেই কুণাল ঘোষ নিজে সরাসরি কালীঘাট থানায় গিয়ে একটি লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি তথা হাই-প্রোফাইল নেতার ওপর খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ঘরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে এই ধরণের হামলা পুরো প্রশাসনের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয় এবং তৎপর হয়ে ওঠে পুলিশ প্রশাসন। বিধায়কের অভিযোগের ভিত্তিতে অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যেই চন্দন কয়াল এবং রবি কয়াল নামের দুই অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে কালীঘাট থানার পুলিশ।
হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বলয় টপকে কীভাবে এই কাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে এখন পুরো রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়। সবমিলিয়ে এখন পুলিশি জেরার মুখে এই দুই অপরাধী কী স্বীকারোক্তি দেয় এবং এই চক্রান্তের পেছনে অন্য কোনো বড় মাথার হাত বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার!
-জ্যোতি সরকার