সর্বশেষ সংবাদ
ভোররাতে ধুন্ধুমার কালীঘাটে! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে ঢুকল পুলিশ, মিলল না কিছুই

ভোররাতে ধুন্ধুমার কালীঘাটে! তালা ভেঙে অভিষেকের বাড়িতে ঢুকল পুলিশ, মিলল না কিছুই

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ৩টে। আচমকাই তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির সামনে এসে থামল শালবনি থানার পুলিশের গাড়ি। সঙ্গে বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী। লক্ষ্য, জমি দুর্নীতি মামলায় জড়িত সন্দেহে অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের খোঁজ। 

শেষ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ ঘণ্টার টানটান নাটকের পর খালি হাতেই ফিরতে হলো তদন্তকারীদের। দীর্ঘ তল্লাশিতে কিছুই মেলেনি বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে পুলিশের ‘সিজার লিস্ট’-এ।

 

আরও পড়ুন ১২৫টি বেআইনি চাকরি, ঘুষে নেওয়া হলো সোনাদানাও? সাতসকালে মদন মিত্রের ঘরে ঢুকে একি দেখল ইডি!

 

শনিবার ভোররাত থেকে সকাল পর্যন্ত কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় কালীঘাট। পুলিশ সূত্রে খবর, মেদিনীপুরের প্রাক্তন বিধায়ক সুজয় হাজরাকে জমি দুর্নীতি মামলায় জেরা করেই সুমিত রায়ের নাম উঠে আসে। সুমিতের মোবাইলের শেষ টাওয়ার লোকেশন দেখাচ্ছিল অভিষেকের এই বাড়িতেই। সেই সূত্র ধরেই হানা দেয় শালবনি ও কালীঘাট থানার পুলিশ।


৩টে: কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে চারপাশ ঘিরে ফেলে অভিষেকের বাড়ির সামনে পৌঁছোয় পুলিশ। ভোর ৩টে থেকে ৫টা:  টানা দু’ঘণ্টা দরজার বাইরে অপেক্ষা করেন তদন্তকারীরা। ডাকাডাকির পাশাপাশি বারবার বাজানো হয় কলিং বেল। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও সাড়া মেলেনি। পরিবারের তরফে অসহযোগিতার অভিযোগ ওঠে।  সকাল ৫টা: দরজা খোলার জন্য ডেকে পাঠানো হয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে (DMG)। সকাল ৬টা ৩০ মিনিট:  শেষ পর্যন্ত তালা ভেঙে অভিষেকের অন্দরে ঢোকে পুলিশ। তিন তলা থেকে ছাদ পর্যন্ত চলে ম্যারাথন তল্লাশি।  সকাল ৮টা: দীর্ঘ ৯০ মিনিটের তল্লাশি শেষে কিছুই না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ। বাজেয়াপ্তের তালিকায় (Seizure List) লেখা হয় ‘নিল’ (Nil)।

এই ঘটনার পরেই সমাজমাধ্যমে পুলিশের সেই ‘নিল’ সিজার লিস্টের নথি প্রকাশ করে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার উপদলনেতা সাগরিকা ঘোষ। গোটা বিষয়টিকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ ও ‘মানসিক নির্যাতন’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। সাগরিকার অভিযোগ, “কোনও প্রমাণ নেই, কোনও ভুল কাজ হয়নি। এটা আসলে ‘অপারেশন লোটাস’-এর অঙ্গ। যে সমস্ত বিরোধী নেতা বিজেপির সামনে মাথা নত করছেন না, তাঁদের ভয় দেখাতেই এই লজ্জাজনক আক্রমণ। এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রী কৌশলকে ধিক্কার জানাই।”

শনিবার সকালে তল্লাশির খবর পেয়েই ভাইপোর বাড়িতে ছুটে যান প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেশ কিছুক্ষণ সেখানে থাকার পর তল্লাশি অভিযান শেষ হলে তিনি ফিরে যান।

অন্যদিকে, বাড়ি থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, “তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পুরো বাড়ি সার্চ করা হয়েছে। গোটা প্রক্রিয়ার রেকর্ডিং করা হয়েছে।” আপ্তসহায়ককে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তাঁর বক্তব্য, “আমি কাউকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখিনি। তাই তদন্তকারীরাও এসে কিছুই পায়নি।”

রাজনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই ঘটনার পর রাজ্য রাজনীতিতে শাসক-বিরোধী সংঘাতের পারদ যে আরও কয়েক ডিগ্রি চড়ল, তা বলাই বাহুল্য।

                                                                                                                                                                                                                                                 -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর