শনিবার সকাল থেকেই রাজ্যে ফের বড়সড় কেন্দ্রীয় অ্যাকশন। এবার ইডির (ED) নজরে কামারহাটির হেভিওয়েট তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র (Madan Mitra)। পৌরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে আজ সকাল থেকেই কলকাতা এবং শহরতলির মোট ৭টি জায়গায় একযোগে ম্যারাথন তল্লাশি চালাচ্ছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ভবানীপুর থেকে শুরু করে জোকা, দক্ষিণেশ্বর, বেলেঘাটা ও বেহালা- সর্বত্র হানা দিয়েছেন ইডি আধিকারিকরা। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘিরে রেখেছে বিধায়কের বাড়ি ও কার্যালয়।
ইডি সূত্রে খবর, শনিবার ভোর ৬টা নাগাদ মদন মিত্রের দক্ষিণেশ্বরের আবাসনে পৌঁছায় ইডির ৪ সদস্যের একটি দল। সূত্রের দাবি, দক্ষিণেশ্বরের ওই ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানোর সময় বিছানার তলা থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা এবং বেশ কিছু রহস্যময় নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে। শুধু তাই নয়, দক্ষিণেশ্বরের ওই আবাসনের নিচে এক ব্যবসায়ীর অফিস জোরপূর্বক দখল করে রাখার অভিযোগও উঠেছে বিধায়কের বিরুদ্ধে। এছাড়া ভবানীপুরের যদুবাবুর বাজারের বিপরীতে মদন মিত্রের যে পার্টি অফিস রয়েছে, সেখানেও সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ হানা দেয় কেন্দ্রীয় সংস্থা।
আরও পড়ুন দক্ষিণবঙ্গে অবশেষে বর্ষার আগমন! আগামী ২-৩ দিনেই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টির পূর্বাভাস
তদন্তকারী আধিকারিকদের দাবি, পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতিতে মদন মিত্রের ভূমিকা অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। কামারহাটি-সহ একাধিক পৌরসভায় অযোগ্য প্রার্থীদের বেআইনিভাবে চাকরি পাইয়ে দিয়েছিলেন তিনি। বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ক্যাশ টাকা তো বটেই, এমনকি ঘুষ হিসেবে সোনাদানাও নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। ইডি জানতে পেরেছে, কম করে ১২৫টি এমন বেআইনি নিয়োগের সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন মদন মিত্র। তবে এই টাকা সরাসরি নয়, বরং কিছু ‘মিডলম্যান’ বা দালালের মাধ্যমে বিধায়কের কাছে পৌঁছাত বলে অনুমান করা হচ্ছে।
স্কুল নিয়োগ দুর্নীতির তদন্তে নেমে সিআইডি ও সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রোমোটার অয়ন শীল। তাঁর সল্টলেকের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া ওএমআর শিট দেখেই পুরসভা দুর্নীতির পর্দাফাঁস হয়। ইডি সূত্রে খবর, অয়ন শীলের কাছ থেকে একটি ডায়েরি উদ্ধার হয়েছিল, যেখানে কোড ল্যাঙ্গুয়েজে লেখা ছিল 'MM'। তদন্তকারীদের দাবি, এই 'MM'-এর আসল অর্থই হলো মদন মিত্র। এই ডায়েরির সূত্র ধরেই আজ বিধায়কের ঠিকানায় হানা দিয়েছে ইডি।
মদন মিত্রের ওপর চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট। কারণ, মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগেই (শুক্রবার) একটি সই জালিয়াতির মামলার তদন্তে তাঁর ভবানীপুরের বাড়িতে গিয়েছিল রাজ্য পুলিশের সিআইডি (CID) টিম। সেই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই শনিবার সকালে হাজির হলো ইডি। অন্যদিকে, কাকতালীয়ভাবে এই শনিবার সকালেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতেও একটি জালিয়াতি মামলার তদন্তে পৌঁছে গিয়েছে শালবনি থানার পুলিশ।
আপাতত ভবানীপুরের বাড়িতেই আটকে রাখা হয়েছে মদন মিত্রকে। ঘরের দরজা বন্ধ করে তাঁকে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, এই অভিযানের আগেই কামারহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল সাহাকে হেনস্থার প্রতিবাদে পুরসভার সমস্ত কাউন্সিলরকে একযোগে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়ে সুর চড়িয়েছিলেন মদন। তিনি দাবি করেছিলেন, আগামীদিনেও কামারহাটিতে তৃণমূলেরই পতাকা উড়বে। কিন্তু ইডির এই মেগা রেইড এবং বিছানার তলা থেকে টাকা উদ্ধারের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য কামারহাটির বিধায়কের অস্বস্তি যে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, এই ম্যারাথন জেরা শেষে ইডি পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেয়।
-জ্যোতি সরকার