তৃণমূলের রাজ্য মহিলা সংগঠনের শীর্ষপদে রদবদলকে কেন্দ্র করে চরম নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হল রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার রাতে কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদকে মহিলা সংগঠনের নতুন সভানেত্রী হিসেবে ঘোষণা করে তৃণমূল নেতৃত্ব।
সেই ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই নেটমাধ্যমে একটি চিঠির কপি পোস্ট করে খোদ মালা রায় দাবি করেন, তিনি আগেই ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ওই পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। অর্থাৎ, দলের তরফে তাঁকে সরানোর আগেই তিনি নিজে থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
এই পদত্যাগের নেপথ্যে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক জল্পনা। শুক্রবারই তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ সাংসদদের একটি সই-সংবলিত তালিকা প্রকাশ্যে আসে, যার ১৮ নম্বরে রয়েছে কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের নাম। বিক্ষুব্ধ শিবিরে তাঁর নাম থাকা এবং এই আকস্মিক ইস্তফা, দুইয়ে মিলে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের ফাটলকেই আরও স্পষ্ট করে দিয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
প্রসঙ্গত, এতদিন মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রীর পদ সামলাচ্ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁকে দলের রাজ্য সভাপতির গুরুদায়িত্বে নিয়ে আসার পর, গত শুক্রবারই মালা রায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল মহিলা সংগঠনের ব্যাটন। কিন্তু সেই চেয়ারে বসার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সোজা ইস্তফা দিলেন তিনি।
বিক্ষুব্ধ শিবিরে মালা রায়ের নাম থাকা এবং তাঁর এই ভূমিকা নিয়ে দলের অন্দরেও ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। অত্যন্ত বিস্ফোরক ভঙ্গিতে কুণাল বলেন, “মালাদিকে শ্রদ্ধা করি। তিনি অসুস্থ, ভাল করে হাঁটতে পারেন না। তারপরও দল তাঁকে সময়-সুযোগ দিয়ে সাংসদ করেছে, পুরনিগমের চেয়ারপার্সন করেছে। তাঁদেরও যদি এখন মনে হয় শিবির বদল করতে হবে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখের, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক!”
তৃণমূলের অন্দরের এই বিদ্রোহ ও পাল্টা পদত্যাগের হিড়িক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
-অঙ্কিতা পাল