সর্বশেষ সংবাদ
অভিষেকের ডাবল ট্রাবল! একদিকে কল্যাণের বিদ্রোহ, অন্যদিকে ঝুলছে সিআইডি-র হেফাজতের খাড়া! কীভাবে সামলাবেন?

অভিষেকের ডাবল ট্রাবল! একদিকে কল্যাণের বিদ্রোহ, অন্যদিকে ঝুলছে সিআইডি-র হেফাজতের খাড়া! কীভাবে সামলাবেন?

তৃণমূলের অন্দরে যখন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহ নিয়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর নেমে এল আরও এক বিরাট ধাক্কা! তবে এবার কোনো রাজনৈতিক দল নয়, খোদ সিআইডি আদালতে দাঁড়িয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটাল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে! বিধায়কদের স্বাক্ষর জালিয়াতি মামলায় ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদকে সরাসরি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি তুলল সিআইডি!

 

আরও পড়ুন তৃণমূলে এবার সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণ! সুখেন্দু-সুস্মিতার পর পদত্যাগ করলেন উত্তরবঙ্গের প্রভাবশালী আদিবাসী মুখ প্রকাশ চিক বরাইক!

 

এদিন আদালতে শুনানির সময় সিআইডি স্পষ্ট জানায়, অভিষেককে ইতিমধ্যেই তিনটি নোটিস পাঠানো হয়েছিল, যার মেয়াদ কিন্তু শেষ। তাই এই পরিস্থিতিতে তাঁর নতুন করে আইনি রক্ষাকবচ পাওয়ার কোনো অধিকারই তার আর নেই! তদন্তকারীদের আরও দাবি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটা কাগজ বা রেজোলিউশন পাঠিয়েছিলেন, যেখানে একাধিক বিধায়কের সই ছিল। কিন্তু তদন্তে নেমে গোয়েন্দারা যখন ওই বিধায়কদের সাথে কথা বলেন, তখন একেবারে অন্য এক গল্প বেরিয়ে আসে!

আদালতে সিআইডি-র আইনজীবীরা বিস্ফোরক দাবি করে জানান, "অনেক বিধায়কই তাঁদের জানিয়েছেন, কাগজে যে তারিখ লেখা আছে, সেদিন তাঁরা উপস্থিতই ছিলেন না! তাহলে ওই কাগজে তাঁদের সই এল কোথা থেকে?"

সিআইডি-র আরও দাবি, সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে প্রাথমিকভাবে এটাই মনে হচ্ছে, এই জালিয়াতির সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি যুক্ত এবং অপরাধটি তিনি নিজেই করেছেন! এমনকি আদালতের এজলাসে দাঁড়িয়ে তদন্তকারীরা প্রশ্ন তোলেন, "এই জালিয়াতির শিকড়ে পৌঁছতে অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ না করলে তদন্ত কীভাবে এগোবে?" 

সিআইডি যখন এভাবে একের পর এক তোপ দাগছে, ঠিক তখনই আদালতে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন অভিষেকের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য। সিআইডি-র এই দাবির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি স্পষ্ট জানান, এই পুরো মামলাটাই আসলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ভিত্তিহীন! জালিয়াতির পেছনে কোনো অকাট্য প্রমাণই নেই। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে অভিষেককে হেনস্থা করতেই এই নোটিস পাঠানো এবং হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর মক্কেল তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, কিন্তু তাঁকে ফাঁসাতেই এই আইনি জাল বিছানো হচ্ছে বলে সওয়াল করেন অয়ন।

একদিকে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ মুহূর্তে অভিষেকের মামলা থেকে সরিয়ে দেওয়ায় তিনি চরম ক্ষুব্ধ, এমনকি অভিষেক দলে থাকলে তিনি থাকবে না এমনও দাবি তাঁর! অন্যদিকে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর খোদ সিআইডি-ই এখন অভিষেককে হেফাজতে নিতে চাইছে! রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় থাকায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থাও পুরোপুরি অ্যাকশন মোডে। আর তাই, অতীতে যে সিআইডি-র ভূমিকা নিয়ে অন্যরকম চর্চা হতো, আজ সেই সিআইডি-ই আইনের শাসন বজায় রাখতে অভিষেকের বিরুদ্ধে আদালতে বাঘের মতো গর্জে উঠছে!

এমনিতেই ক্ষমতা হারিয়ে চারিদিকে দল ভাঙার চরম সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে তৃণমূল, তার ওপর এবার খোদ সিআইডি-র এই সাঁড়াশি আক্রমণ! সব মিলিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কি পারবেন বিজেপি সরকারের এই আইনি চক্রব্যূহ থেকে বেরোতে? নাকি এবার সত্যিই বড়সড় বিপাকে পড়তে চলেছেন সেকেন্ড-ইন-কমান্ড?

                                                                                                                                                                                                                     -দিশা দাস

পরবর্তী খবর