কলকাতার আলিপুরে এক বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। বুধবার সকালে আলিপুরে অবস্থিত দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদের বহুতল দফতরে (যেখানে জেলা শাসকের অফিস ও এনআইসি-র মূল কার্যালয় অবস্থিত) এই ভয়াবহ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় পুরো এলাকা। অফিস পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটায় বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো গেলেও, ভবনের ছাদে কয়েকজন কর্মী আটকে পড়েন এবং প্রচুর গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথি ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন নবান্নে শুভেন্দুর রাজ! চূড়ান্ত হলো মন্ত্রীদের দফতর, কার কপালে কী জুটল? দেখুন আসল তালিকা!
প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, ভবনের চতুর্থ তলায় একটি বাতানুকূল যন্ত্রে (AC) শর্ট সার্কিট হওয়ার কারণেই এই আগুনের সূত্রপাত। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে ভবনের তৃতীয়, পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলায়। সরকারি অফিস হওয়ার কারণে ভেতরে থাকা প্রচুর কাগজ, ফাইল, কম্পিউটার ও জেরক্স মেশিনের মতো দাহ্য পদার্থের সংস্পর্শে এসে আগুন আরও বিধ্বংসী রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে দমকলের ১০টি এবং পরবর্তীতে মোট ১২টি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আগুন লাগার সময় ভবনের ভেতরে মূলত ৩ জন উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন রংমিস্ত্রিকে দড়ির সাহায্যে নিরাপদে নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হলেও, বাকি দুই কর্মী প্রাণ বাঁচাতে বহুতলের ছাদে আশ্রয় নেন। দমকল ও উদ্ধারকারীরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে তাঁদের নিচে নামিয়ে আনার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে এলাকাটি অত্যন্ত সংকীর্ণ এবং চারপাশে প্রচুর গাছপালা থাকায় দমকলের পক্ষে হাইড্রোলিক ল্যাডার (মই) ব্যবহার করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। শেষমেশ জানলার কাচ ভেঙে ভেতরে জল দেওয়ার কাজ শুরু করেন দমকলকর্মীরা। ধোঁয়ার কারণে যাতে কেউ অসুস্থ না হয়ে পড়েন, সেজন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার ও ব্রিদিং মেশিনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
যে ভবনটিতে আগুন লেগেছে, সেখানেই রাজ্য সরকারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এনআইসি (NIC) অফিস অবস্থিত। এখান থেকেই মূলত রাজ্যের সমস্ত সরকারি দফতরের ইন্টারনেট ও সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে সার্ভার বা ইন্টারনেট সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে গোটা রাজ্যের অনলাইন সরকারি পরিষেবা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ার বা ব্যাহত হওয়ার বড়সড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দমকল আধিকারিকদের মতে, বর্তমানে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হলো আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা এবং ছাদে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষিতভাবে উদ্ধার করা। আগুন পুরোপুরি নেভানোর পর এর আসল উৎস সন্ধানে প্রয়োজনে ফরেনসিক তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে এই সরকারি ভবনে নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সচল ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও, উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সঠিক পরিস্থিতি স্পষ্ট নয়।
-জ্যোতি সরকার