সর্বশেষ সংবাদ
মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান! তল্লাশিতে মিলল 'বিগ জিরো', কাগজ উঁচিয়ে কী বললেন তৃণমূল নেতা?

মমতার বাড়িতে সিআইডি অভিযান! তল্লাশিতে মিলল 'বিগ জিরো', কাগজ উঁচিয়ে কী বললেন তৃণমূল নেতা?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লিতে, ঠিক তখনই তৃণমূলের খাসতালুকে সিআইডি-র জোড়া অপারেশন। মঙ্গলবার দুপুরে সিআইডি-র একটি টিম হানা দেয় কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূল কার্যালয়ে, আর অন্যটি ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে! সঙ্গে ছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

 

আরও পড়ুন ধাম-বিতর্কের অবসান দিঘায়, ওড়িশার আপত্তিতে নাম বদল শুভেন্দুর! নয়া পরিচয় ‘জগন্নাথ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’

 

কিন্তু দুপুরের এই জোড়া অভিযানের শুরুতেই কালীঘাটে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। তদন্তকারীরা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে পৌঁছোলেও, কালীঘাটের কার্যালয়ের দোরগোড়াতেই তাঁদের আটকে দেওয়া হয়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ির গেট আগলে রীতিমতো 'প্রাচীর' হয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ তথা তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তী। নিজেকে একজন সাধারণ কর্মী এবং ভলান্টিয়ার পরিচয় দিয়ে সিআইডি-র মুখের ওপর তিনি সাফ জানান, মমতা ও অভিষেক দুজনেই বর্তমানে বিরোধী 'ইন্ডিয়া' জোটের বৈঠকে দিল্লিতে রয়েছেন। তাই তাঁদের অনুপস্থিতিতে কোনোভাবেই ভিতরে ঢোকা যাবে না।

এই নিয়ে সিআইডি-র সঙ্গে শুরু হয় তীব্র বচসা। তদন্তকারীরা ধমকের সুরেই জানান, তল্লাশি চালানোর আইনি কাগজ তাঁদের কাছে রয়েছে, তাই এখানে কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই। এভাবে বাধা দেওয়া মানে তদন্তে আইনের অবমাননা করা। কিন্তু দমবার পাত্র ছিলেন না তৃণমূল নেতাও। তিনি সিআইডির কাছে দু-দিন পর আসার আবেদন জানান।

পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। সিআইডি ও কেন্দ্রীয় বাহিনী চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি। এই উত্তেজনার মাঝেই সেখানে একে একে এসে হাজির হন কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ওদিকে দলীয় কাজে এসে এই জটলায় আটকে পড়েন কুণাল ঘোষও। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপস্থিতিতে এই তল্লাশিকে তিনি 'দৃষ্টিকটূ' বলেও ক্ষোভ উগড়ে দেন।

প্রায় এক ঘণ্টার টানাপোড়েন শেষে, অবশেষে বিকেল ৪টের কিছু পরে কালীঘাটের কার্যালয়ে প্রবেশ করে সিআইডির টিম। ওদিকে ক্যামাক স্ট্রিটেও তখন চলে জোর তল্লাশি। কিন্তু কেন এই আচমকা হানা? নেপথ্যে রয়েছে সেই বহুচর্চিত 'সই-কাণ্ড'। অভিযোগ, বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর কাছে তৃণমূল বিধায়কদের সই করা যে প্রস্তাবিত চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাতে বেশ কয়েকজন বিধায়কের সই 'জাল' করা হয়েছে। আর যে বৈঠকে এই সই সংগ্রহ করা হয়েছিল, তা হয়েছিল কালীঘাটের এই কার্যালয়েই। সেই কারণে আজ একযোগে দুই জায়গায় প্রমাণের খোঁজে হানা দেয় সিআইডি।

উল্লেখ্য, এই মামলাতেই আজ বিকেল ৫টাতে অভিষেককে ভবানীভবনে তলব করেছিল সিআইডি। হাইকোর্টে মামলার কারণ দেখিয়ে অভিষেক সময় চাইলেও তা দেয়নি সিআইডি। তিনি হাজিরা না দেওয়ায়, তদন্তকারীরা আর সময় নষ্ট না করে সরাসরি তাঁর ও দলের দুটি প্রধান অফিসে হানা দেয়।

তবে দীর্ঘ তল্লাশি শেষে এল এক বড়সড় নাটকীয় মোড়! মমতার বাড়ি ও কার্যালয় তল্লাশিতে শেষ পর্যন্ত সিআইডি-র ঝুলিতে এল 'বিগ জিরো'। তল্লাশি শেষে সিআইডি-র ৩০ জনের টিমকে খালি হাতেই বেরিয়ে আসতে হয়। কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত তৃণমূল নেতা শুভাশিস চক্রবর্তী তদন্তকারীদের সই করা অফিশিয়াল সিজার লিস্টের কাগজ সংবাদমাধ্যমের সামনে উঁচিয়ে সাফ জানিয়ে দেন, "আফটার সার্চ, সিজার লিস্ট ইজ নীল (Nil)। নাথিং ওয়াজ রিকভার্ড!" অর্থাৎ তল্লাশিতে কিছুই পায়নি সিআইডি।

দিল্লিতে মমতা-অভিষেক, আর কলকাতায় তাঁদের অফিসের বাইরে সিআইডি বনাম তৃণমূলের তুলকালামের পর সিআইডির এই 'খালি হাতে ফেরা' এই মুহূর্তে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সিআইডি এই দফায় কোনো প্রমাণ না পেয়ে ফিরে গেলেও, আজকের এই হাইভোল্টেজ নাটকের পরবর্তী মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেদিকেই নজর থাকবে সবার।\

                                                                                                                                                                                        -দিশা দাস

পরবর্তী খবর