১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা আর্থিক প্রতারণা এবং বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে আইনি বিপাকে জড়ালেন টলিউড অভিনেতা ও রাজনীতিক সোহম চক্রবর্তী। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কলকাতার চারু মার্কেট থানায় অভিনেতার বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) রুজু করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, এক ব্যবসায়ী সোহম চক্রবর্তীর সংস্থার সঙ্গে একটি ব্যবসায়িক চুক্তি করেছিলেন। সেই চুক্তি অনুযায়ী, দু’দফায় যথাক্রমে ৮০ লক্ষ এবং ২৫ লক্ষ টাকা (সর্বমোট ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা) সোহমের সংস্থাকে দেওয়া হয়েছিল। চুক্তিমাফিক ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজও হয়নি এবং টাকাও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এর পরেই ওই ব্যবসায়ী চারু মার্কেট থানার দ্বারস্থ হন। প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গ-সহ একাধিক জামিনঅযোগ্য ধারায় অভিনেতার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
যদিও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিনেতা। সম্প্রতি বালুরঘাটের মঙ্গলপুরের বাসিন্দা তথা ‘তৃণা ফিল্মস’-এর কর্ণধার তরুণ দাস অভিযোগ তুলেছিলেন যে, একটি ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয়ের জন্য ১৫ লক্ষ টাকা নিয়েও শুটিংয়ে আসেননি সোহম। উল্টে টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে সংবাদমাধ্যমকে সোহম জানান, ২০১৮ সালের একটি ছবির বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছিল। তবে প্রযোজক তরুণ দাসের সঙ্গে তাঁর সরাসরি কোনো যোগাযোগ বা দেখা হয়নি। এক্সিকিউটিভ প্রডিউসার অমিতাভ মুখোপাধ্যায় এবং পরিচালক মহুয়া চক্রবর্তী তাঁর কাছে ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে এসেছিলেন। গল্প পছন্দ হওয়ায় তিনি রাজি হন এবং অগ্রিম বাবদ ১৫ লক্ষ টাকার একটি চেক নেন।
সোহমের দাবি, "ছবিটি শেষ পর্যন্ত তৈরিই হয়নি। আর এই ছবির ডেট দেওয়ার কারণে আমাকে অন্য বেশ কয়েকটি সিনেমার কাজ বাতিল করতে হয়েছিল, যার ফলে আমার আর্থিক ক্ষতি হয়।"
আর্থিক বিতর্কের মাঝেই কিছুদিন আগে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন সোহম। নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় তিনি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সুরক্ষার আবেদনও জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী যেন তাঁদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন, সেই অনুরোধও করেছেন অভিনেতা।
কোটি টাকার এই আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগের জল কতদূর গড়ায়, এবং চারু মার্কেট থানার তদন্তে কী তথ্য সামনে আসে, এখন সেদিকেই নজর টলিপাড়ার।
-অঙ্কিতা পাল