সর্বশেষ সংবাদ
'বিশ্ব পরিবেশ দিবসে' কলকাতার প্রেস ক্লাবে পরিবেশ সচেতনতার বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবে কী বললেন অধ্যাপক থেকে বিজ্ঞানীরা?

'বিশ্ব পরিবেশ দিবসে' কলকাতার প্রেস ক্লাবে পরিবেশ সচেতনতার বিশেষ চলচ্চিত্র উৎসবে কী বললেন অধ্যাপক থেকে বিজ্ঞানীরা?

জলবায়ুর ভয়ঙ্কর পরিবর্তন আর বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে আজ খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে মানুষের অস্তিত্ব। তীব্র গরম আর একের পর এক আকস্মিক বজ্রপাতের মতো মরণ সংকেত প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের প্রকৃতি দিয়ে চললেও, সাধারণ মানুষ আজ চরম উদাসীন। ঠিক এই প্রেক্ষাপটকে সামনে রেখেই বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে কলকাতার প্রেস ক্লাবে পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক আলোচনা সভা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক কলকাতা শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল (IKSFF)-এর বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটির মূল শিরোনাম ছিল "উইস্পার্স অফ টুমরো- নেচার, ক্লাইমেট অ্যান্ড আওয়ার ফিউচার"।

 

আরও পড়ুন সব জল্পনার ইতি টেনে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করলেন ফিরহাদ হাকিম!

 

উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে তৈরি বেশ কিছু প্রভাবশালী স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র এই অনুষ্ঠানে প্রদর্শন করা হয়। যার মধ্যে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পুনর্বসু চৌধুরী এবং অনিমেষ সিনহার তৈরি একটি বিশেষ তথ্যচিত্র দর্শকদের বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে। অনুষ্ঠানের শুরুতে আমন্ত্রিত অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে এবং ফুল ও সবুজ চারা গাছ উপহার দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছিল। মঞ্চে উপস্থিত থেকে পরিবেশের বর্তমান সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. পুনর্বসু চৌধুরী, 'নো ডিজাস্টার্স ম্যাগাজিন'-এর সিনিয়র এডিটর বৈশালী মুখার্জী এবং পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। একই সাথে, শহর কলকাতাকে প্লাস্টিক ও ও জঞ্জালমুক্ত রাখার উদ্দেশ্যে ‘#KolkataCleanCity2026’ নামে একটি ডিজিটাল সচেতনতা অভিযানেরও সূচনা করা হয় এই মঞ্চ থেকে।

বিশিষ্ট পরিবেশ বিজ্ঞানী ড. স্বাতী নন্দী চক্রবর্তী এবং বৈশালী মুখার্জী জানান যে, বর্তমান সময়ে কার্বন ও মিথেন গ্যাস বাড়ার কারণে যেভাবে তাপমাত্রা বাড়ছে ও মানুষ মারা যাচ্ছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে জলাভূমি বুজিয়ে বাড়ি তৈরি করা বা বিষ দিয়ে গাছ মারার মতো অপরাধ বন্ধ না হলে আগামী প্রজন্মের জন্য কোনো বাসযোগ্য পৃথিবী অবশিষ্ট থাকবে না বলে জানান তাঁরা।

বিজ্ঞানীদের মতে, পরিবেশ রক্ষার এই লড়াইকে শুধু মাত্র ৫ই জুনের চারা গাছ লাগানো কিংবা সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করার (ফটো সেশন) মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কোনো লাভ হবে না। পরিবেশ দিবস তখনই সার্থক হবে যখন একে আমরা আমাদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারব। তরুণ প্রজন্মকে আরও বেশি সচেতন করার পাশাপাশি আমাদের সবাইকে আজ থেকেই এগিয়ে আসতে হবে; তবেই রক্ষা পাবে আমাদের ভালোবাসার তিলোত্তমা তথা এই সুন্দর পৃথিবী। 

                                                                                                                                                                                                 -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর