অবশেষে ইডির জালে ধরা পড়লেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) শান্তনু সিনহা বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার দীর্ঘ ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেফতার করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
শুক্রবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে তাঁর বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ সামনে আনে ইডি। যা শুনে রীতিমত চমকে যান বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত প্রায় সকলেই। ইডির দাবি, শান্তনু এই কীর্তিকলাপ হার মানাতে পারে যে কোনও সিনেমার চিত্রনাট্যকেও।
আরও পড়ুন পেট্রোল-ডিজেলের সঙ্গে আর কী কী জিনিসের দাম বাড়তে পারে? জানুন বিস্তারিত
আদালতে পেশ করা ইডির রিপোর্ট অনুযায়ী, শান্তনু সিনহা বিশ্বাস তাঁর পদ ও প্রভাব খাটিয়ে একাধিক দুর্নীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে, দক্ষিণ কলকাতার কুখ্যাত জমি মাফিয়া সোনা পাপ্পু এবং প্রোমোটার জয় কামদারের সঙ্গে তাঁর গভীর যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থা। অভিযোগ উঠেছে, প্রভাব খাটিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষের জমি লিখে নেওয়া থেকে শুরু করে বড় অঙ্কের তোলাবাজির চক্র চালাতেন তাঁরা। শান্তনুর পরিবারের সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিশ মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের।
আরও জানা যাচ্ছে, জমি সংক্রান্ত দুর্নীতির পাশাপাশি পুলিশ মহলে আধিকারিকদের বদলি নিয়েও শান্তনু বড়সড় কারবার চালাতেন বলে অভিযোগ করেছে ইডি। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, পছন্দমতো জায়গায় বদলি করানোর বিনিময়ে মোটা টাকা লেনদেন হতো। ধৃত ব্যবসায়ী জয় কামদারের ফোনের চ্যাট এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি খতিয়ে দেখে ইডি জানিয়েছে, পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে শান্তনুর এই প্রভাব ছিল অত্যন্ত প্রভাবশালী। জয় কামদারের সঙ্গে শান্তনুর নিয়মিত যোগাযোগ এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য এখন ইডির প্রধান হাতিয়ার।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বালিগঞ্জের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। এরপর তাঁকে একাধিকবার তলব করা হলেও তিনি হাজিরা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে লুক আউট নোটিসও জারি করা হয়েছিল। শেষমেশ বৃহস্পতিবার তিনি সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিলে তাঁকে বয়ানে অসঙ্গতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
এদিন শান্তনুকে আদালতে পেশ করা হলে ইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানায়। বর্তমানে আদালতের নির্দেশে তাঁকে ১০ দিনের ইডি হেফাজত দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, তাঁকে জেরা করলে আরও অনেক রাঘববোয়ালের নাম সামনে আসতে পারে এবং পুলিশ প্রশাসনের অন্দরে থাকা আরও অনেকের যোগসূত্র স্পষ্ট হতে পারে।
অন্যদিকে, শান্তনুর আইনজীবীরা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি মামলা। তবে ইডি-র হাতে আসা ডিজিটাল প্রমাণ ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এখন এই পুলিশকর্তার জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
-দিশা দাস