সর্বশেষ সংবাদ
আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! ৩ আইপিএস সাসপেন্ড করার পর মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ শুভেন্দুর

আরজি কর কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ! ৩ আইপিএস সাসপেন্ড করার পর মমতার ভূমিকাও খতিয়ে দেখার নির্দেশ শুভেন্দুর

আরজি কর কাণ্ড নিয়ে এবার চরম কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্যের নতুন সরকার। কর্তব্যে গাফিলতি ও তথ্য ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগে একসঙ্গে ৩ জন হেভিওয়েট আইপিএস (IPS) অফিসারকে সাসপেন্ড করা হলো। শুক্রবার নবান্ন থেকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই বড় ঘোষণা করেছেন। সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের তালিকায় রয়েছেন কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলও। একই সঙ্গে সেই সময়কার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কী ভূমিকা ছিল, তাও তদন্ত করে দেখা হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।

 

আরও পড়ুন কল্যাণ ফিরতেই ‘বিদ্রোহী’ কাকলি! ৪৪ বছরের সম্পর্কের কি তবে ইতি? ফেসবুক পোস্টে চরম জল্পনা

 

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর মেডিকেল কলেজে তরুণী চিকিৎসককে নির্যাতন ও খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে গোটা রাজ্যে ক্ষোভের আগুন জ্বলে উঠেছিল। এবার ক্ষমতায় এসেই সেই আরজি কর কাণ্ডের ফাইল নতুন করে খুলল বর্তমান সরকার। স্বরাষ্ট্র দপ্তরের দায়িত্ব নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মামলার বিষয়ে মুখ্য সচিব ও স্বরাষ্ট্র সচিবের কাছে লিখিত রিপোর্ট চেয়েছিলেন। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই এই বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যে ৩ জন শীর্ষ আইপিএস অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, তাঁরা হলেন তৎকালীন কলকাতা পুলিশের কমিশনার বিনীত গোয়েল, সেই সময়কার ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং তৎকালীন ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্ত। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থেই এই তিনজনকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো, যাতে তাঁরা নিজেদের ক্ষমতা খাটিয়ে তদন্তে কোনো বাধা তৈরি করতে না পারেন। এখন তাঁদের বিরুদ্ধে বড়সড় বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে।

এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণটি ঘটিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানান, আরজি কর কাণ্ড সামনে আসার পর নির্যাতিতার পরিবারকে মুখ বন্ধ রাখার জন্য পুলিশের তরফ থেকে টাকা দিয়ে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। কার নির্দেশে এই কাজ করা হয়েছিল, তা জানতে এবার সাসপেন্ড হওয়া অফিসারদের ফোনের কল লিস্ট এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ভালো করে পরীক্ষা করা হবে। সেই রাতে বা তার পরে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা অন্য কোনো মন্ত্রীর কাছ থেকে ধামাচাপা দেওয়ার কোনো নির্দেশ এসেছিল কি না, তা এবার টেনে বের করবে তদন্তকারী দল।

মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য পরিষ্কার করে দিয়েছেন যে, সিবিআই যে মূল মামলার তদন্ত করছে, রাজ্য সরকার তার মধ্যে কোনো হস্তক্ষেপ করছে না। আদালত ও সিবিআই তাদের মতো কাজ করছে। রাজ্য সরকার কেবল সেই সময় পুলিশের ভূমিকা, প্রাথমিক পদক্ষেপ করতে অবহেলা এবং ভেতরের দুর্নীতি নিয়ে তদন্ত করছে। তৎকালীন ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের সেই সময়কার সাংবাদিক বৈঠকের আচরণ ও শরীরী ভাষা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

সবমিলিয়ে বলা যায় আরজি করের ঘটনার পর থেকেই আমজনতা থেকে শুরু করে জুনিয়ার ডাক্তাররা দোষী পুলিশ অফিসারদের শাস্তির দাবিতে লাগাতার আন্দোলন করেছিলেন। তবে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিনীত গোয়েলদের মতো বড় কর্তাদের এই সাসপেনশন রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় ফেলে দিয়েছে। তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা খতিয়ে দেখার এই হুঁশিয়ারি স্পষ্ট করে দিল যে, আরজি কর কাণ্ডের নেপথ্যে থাকা আসল সত্য এবং ওপর মহলের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে এবার শেষ পর্যন্ত যাবে রাজ্য সরকার।

                                                                                                                                                                             -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর