সর্বশেষ সংবাদ
কল্যাণ ফিরতেই ‘বিদ্রোহী’ কাকলি! ৪৪ বছরের সম্পর্কের কি তবে ইতি? ফেসবুক পোস্টে চরম জল্পনা

কল্যাণ ফিরতেই ‘বিদ্রোহী’ কাকলি! ৪৪ বছরের সম্পর্কের কি তবে ইতি? ফেসবুক পোস্টে চরম জল্পনা

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে আশানুরূপ ফল না মেলায় এবার সংসদীয় দলে বড়সড় রদবদল ঘটালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় তৃণমূলের সংসদীয় দলের মুখ্য সচেতক পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল বারাসতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। তাঁর পরিবর্তে ওই পদে ফিরিয়ে আনা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর এই রদবদলের পরেই সমাজমাধ্যমে কাকলির একটি ‘রহস্যময়’ পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক জল্পনা।

 

আরও পড়ুন বঙ্গে প্রবেশ বর্ষার! উত্তরবঙ্গে তুমুল ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস, কেমন থাকবে কলকাতার আবহাওয়া?

 

অপসারিত হওয়ার পর নিজের ফেসবুক হ্যান্ডলে সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি লিখেছেন, "১৯৭৬ সাল থেকে পরিচয় এবং ১৯৮৪ সাল থেকে পথ চলা শুরু। চার দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরস্কৃত হলাম।" রাজনৈতিক মহলের মতে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রতিদান হিসেবে এই অপসারণকে তিনি যে অত্যন্ত অসম্মানজনক বলে মনে করছেন, তা এই শ্লেষাত্মক বার্তার মাধ্যমেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি।

সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনার মতো তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুলের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। জেলার ৩৩টি আসনের মধ্যে মাত্র ৯টি আসন পেয়েছে শাসক দল। খোদ কাকলির নিজের কেন্দ্র বারাসত-সহ আশপাশের বেশিরভাগ বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপি জয়ী হয়েছে। দলের অন্দরের খবর, এই ভরাডুবির জেরেই কার্যত ‘ডানা ছাঁটা’ হল প্রবীণ এই সাংসদের।

২০২৫ সালে তৃণমূলের সংসদীয় দলে বড় পরিবর্তন এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। পাশাপাশি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পদত্যাগ করলে সেই জায়গায় মুখ্য সচেতক করা হয়েছিল কাকলিকে। কিন্তু মাত্র ৯ মাসের মাথাতেই ফের পাশা উল্টে গেল। ২০২৫ সালের অগাস্টে মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে প্রকাশ্য বিবাদের আবহে কল্যাণ ইস্তফা দিলেও, শেষ পর্যন্ত পুরনো সৈনিকের ওপরেই ভরসা রাখলেন নেত্রী।

আইনি লড়াই হোক বা সংসদীয় বিতর্ক, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মুখ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার কালীঘাটে তৃণমূল সাংসদদের নিয়ে আয়োজিত বৈঠকে কল্যাণের নামই চূড়ান্ত করা হয়। ছাব্বিশের ধাক্কা সামলে লোকসভায় বিজেপি বিরোধী সুর চড়াতে কল্যাণের লড়াকু মেজাজকেই ফের হাতিয়ার করতে চাইছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। তবে কাকলির এই প্রকাশ্য অসন্তোষ দলের অন্দরে নতুন কোনও অস্বস্তি তৈরি করে কি না, সেটাই এখন দেখার।

                                                                                                                        -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর