সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের পরেই পুরস্কার? মনোজ আগরওয়ালের মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ ঘিরে তোলপাড় বাংলা!

ভোটের পরেই পুরস্কার? মনোজ আগরওয়ালের মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ ঘিরে তোলপাড় বাংলা!

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার রেশ এখনো কাটেনি। কিন্তু এরই মধ্যে এক নজিরবিহীন প্রশাসনিক রদবদল ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। 

রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়ালকে তড়িঘড়ি রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ করা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক। নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তুলে সরব হয়েছেন বিরোধী নেতা থেকে শুরু করে প্রাক্তন কূটনীতিবিদরাও।

 

আরও পড়ুন আজ থেকে মহার্ঘ্য হলো আমুল দুধ! গোল্ড থেকে কাউ মিল্ক: কোন প্যাকেটে কত টাকা বাড়ল? জানুন বিস্তারিত

 

নির্বাচনী বিধি জারি থাকাকালীন যে আধিকারিক কমিশনের অধীনে থেকে গোটা প্রক্রিয়ার রাশ ধরেছিলেন, ভোট মেটামাত্রই তাঁর এই ‘পদোন্নতি’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাঁর দাবি, প্রায় ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বিজেপিকে বাড়তি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার ‘পুরস্কার’ হিসেবেই আগরওয়ালকে এই গুরুত্বপূর্ণ চেয়ারে বসানো হয়েছে। রমেশের মতে, এই নিয়োগই প্রমাণ করে দেয় যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আদতে কতটা পক্ষপাতিত্ব ছিল।

বিতর্কের এই আগুনে ঘি ঢেলেছে প্রাক্তন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত কে.সি. সিং-এর একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন নির্বাচন কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে। তাঁর দাবি, ভোটের সময় কমিশন যে সমস্ত রদবদল করেছিল, তাতে মূলত এমন আধিকারিকদেরই আনা হয়েছিল যারা বিজেপি নেতৃত্বের ‘আস্থাভাজন’। সিং-এর মতে, এই আঁতাত এখন প্রকাশ্যে চলে এলেও প্রশাসনিক স্তরে কারও কোনো হেলদোল নেই, যা গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগজনক।

তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য প্রথম থেকেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এবং নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব ছিল। জোড়াফুল শিবিরের অভিযোগ ছিল, কমিশন পুরোপুরি বিজেপি-ঘেঁষা মনোভাব নিয়ে কাজ করছে। মনোজ আগরওয়ালের দ্রুত মুখ্যসচিব হওয়া সেই পুরনো অভিযোগকেই নতুন করে অক্সিজেন দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।

প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আধিকারিককে মুখ্যসচিব পদে নিয়োগ করার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। সেখানে আইনি কোনো বাধা নেই। তবে নৈতিকতার প্রশ্নটিই এখানে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যিনি দু'দিন আগেও নিরপেক্ষতার প্রতীক হিসেবে নির্বাচন পরিচালনা করলেন, তিনি কীভাবে রাতারাতি একটি রাজনৈতিক সরকারের অধীনে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদে বসলেন? ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গেলে কি এই নিয়োগ আরও কিছুদিন পিছিয়ে দেওয়া যেত না?

আপাতত এই নিয়োগ ঘিরে সরগরম রাজ্য রাজনীতি। বিরোধীদের দাবি এবং এই বিতর্কিত পদোন্নতি আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো মোড় নেয় কি না, সেটাই এখন দেখার।

                                                                                                                                                                               -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর