সর্বশেষ সংবাদ
হাইকোর্টে ধুন্ধুমার! মমতাকে লক্ষ্য করে স্লোগান, শুভেন্দুকে কড়া হুঁশিয়ারি কল্যাণের!

হাইকোর্টে ধুন্ধুমার! মমতাকে লক্ষ্য করে স্লোগান, শুভেন্দুকে কড়া হুঁশিয়ারি কল্যাণের!

বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতা হাইকোর্ট সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের। রাজনীতির চেনা ময়দান ছেড়ে আজ সরাসরি আদালতের এজলাসে আইনজীবীর ভূমিকায় দেখা গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ভোট-পরবর্তী অশান্তি মামলাকে কেন্দ্র করে এদিন হাইকোর্ট চত্বরে শুধু আইনি লড়াই নয়, তৈরি হলো চরম উত্তেজনা।

 

আরও পড়ুন বাম দুর্গের পতন ঘটিয়ে কেরলে কংগ্রেসের জয়যাত্রা: দিল্লির রুদ্ধদ্বার বৈঠক শেষে মসনদে ভি ডি সতীশন

 

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষণ্য বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় এদিন সওয়াল করতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, গায়ে জড়ান কালো কোট আর গাউন। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থসারথী সেনের ডিভিশন বেঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি মনে করিয়ে দেন, "আমি ১৯৮৫ সাল থেকে বার কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত আইনজীবী।" নিজের সওয়ালে তিনি রাজ্যে শাসকদলের কর্মীদের ওপর হামলা এবং নারী ও শিশুদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ তুলে সরব হন। পশ্চিমবঙ্গকে একটি সাংস্কৃতিক রাজ্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি রাজ্যে 'বুলডোজার' সংস্কৃতির তীব্র বিরোধিতা করেন।

শুনানি শেষ করে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এজলাস থেকে বেরোচ্ছিলেন, তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। হাইকোর্টের লবিতে আইনজীবীদের একাংশ তাঁকে লক্ষ্য করে 'চোর চোর' স্লোগান দিতে থাকেন। ভিড়ের মধ্যে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে এবং গায়ে হাত তোলা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত চত্বরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।

এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে ফেটে পড়েন বর্ষীয়ান আইনজীবী ও সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, বিজেপি পন্থী আইনজীবীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে হেনস্থা করেছেন। কল্যাণবাবু ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, "হাইকোর্টের ভেতরেই যদি আমাদের নিরাপত্তা না থাকে, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।" তিনি এই ঘটনার জন্য বর্তমান প্রশাসনের দিকে আঙুল তুলে রাজ্যে গণতন্ত্র নেই বলে সরব হন।

সবমিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াই এবং আদালত চত্বরের বিক্ষোভ ঘিরে এখন সরগরম রাজ্যের রাজনীতি। একদিকে যখন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনাকে 'অযথা বিষয়' বলে এড়িয়ে গেছেন, অন্যদিকে তৃণমূল শিবির একে গভীর ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছে। রাজনীতির আঙিনা ছাপিয়ে এই লড়াই আগামীতে কোনদিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।

                                                                                                                                                              -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর