২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মুখে বড়সড় ধাক্কা খেল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ করার যে সিদ্ধান্ত কমিশন নিয়েছিল, তা খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। শুক্রবার বিচারপতি কৃষ্ণা রাওয়ের বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। আদালতের এই রায়ের ফলে কয়েক হাজার অধ্যাপক ভোটের ডিউটি থেকে অব্যাহতি পেতে চলেছেন।
আরও পড়ুন লোকসভায় মোদীকে ‘ম্যাজিশিয়ান’ বলে কটাক্ষ রাহুলের, রাজনাথের পাল্টা হুঁশিয়ারিতে তোলপাড় সংসদ
নির্বাচন কমিশন সম্প্রতি একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছিল যে, আসন্ন নির্বাচনে বুথে বুথে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করতে হবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং অ্যাসোসিয়েট প্রফেসরদের। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অধ্যাপকদের একাংশ। তাঁদের দাবি ছিল, পদমর্যাদা ও বেতনকাঠামোর নিরিখে তাঁদের এই পদে নিয়োগ করা আইনত সঠিক নয়।
শুক্রবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি কৃষ্ণা রাও কমিশনের এই একতরফা সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন পর্যাপ্ত তথ্য ও বেতন স্কেল যাচাই না করেই অধ্যাপকদের তলব করা হয়েছে? আদালতের পর্যবেক্ষণ, নির্বাচন কমিশন দীর্ঘ দুই বছর ধরে প্রস্তুতি নিলেও যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। সঠিক কারণ দেখাতে না পারায় গত ৭ জুনের সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তি বাতিল করার নির্দেশ দেয় আদালত।
তবে হাইকোর্ট একটি বিশেষ শর্তও রেখেছে। বিচারপতির নির্দেশ অনুযায়ী, যে সমস্ত অধ্যাপক ইতিমধ্যেই কমিশনের প্রশিক্ষণ (Training) নিয়ে ফেলেছেন, তাঁরা চাইলে প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে কাজ করতে পারেন। কিন্তু বাকিদের ক্ষেত্রে এই নিয়োগ আর বাধ্যতামূলক থাকছে না। এছাড়া অধ্যাপকদের পদমর্যাদা অনুযায়ী কমিশন যদি অন্য কোনো সম্মানজনক দায়িত্ব দিতে চায়, তবে তা তাঁরা পালন করবেন।
পরিশেষে বলা যায়, নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতের এই রায় কমিশনের পরিকল্পনাকে কিছুটা ধাক্কা দিল। অন্যদিকে, অধ্যাপকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সম্মান রক্ষার লড়াইয়ে এটি একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, এই নির্দেশের পর বিকল্প প্রিসাইডিং অফিসার নিয়োগ করতে কমিশন নতুন করে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
-জ্যোতি সরকার