সর্বশেষ সংবাদ
কোচবিহারে মমতার হুঙ্কার: কেন্দ্রীয় সংস্থার অতিসক্রিয়তা ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ

কোচবিহারে মমতার হুঙ্কার: কেন্দ্রীয় সংস্থার অতিসক্রিয়তা ও বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর উত্তাপ এখন তুঙ্গে। এর মাঝেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর (ED ও আয়কর দপ্তর) তৎপরতা নিয়ে রণংদেহি মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কোচবিহারের নির্বাচনী সভা থেকে তিনি বিজেপি পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন।

 

আরও পড়ুন সাবধান! বৃষ্টির পর আরও বাড়বে গরম, কত ডিগ্রি ছোঁবে পারদ?
 

শুক্রবার সকালে কলকাতার রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের বাড়ি এবং নির্বাচনী কার্যালয়ে হানা দেয় আয়কর দপ্তর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র প্রার্থীর বাড়িতেই নয়, এমনকি তাঁর (মমতার) বিমানে এবং নিরাপত্তাকর্মীদের ওপরও নজরদারি বা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। মমতার ভাষায়, "সামনাসামনি লড়াই করতে না পেরে বিজেপি কেন্দ্রীয় সংস্থাকে লেলিয়ে দিচ্ছে।" তিনি বিজেপিকে ‘ভীতু’ ও ‘কাপুরুষের দল’ বলে কটাক্ষ করেন।

কোচবিহারের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনার পাল্টা জবাবে তিনি জানান, রাজ্য সরকার উত্তরবঙ্গের জন্য ১ লক্ষ ৭২ হাজার কোটি টাকা খরচ করেছে। এছাড়াও, লোকসভার আসন সংখ্যা ৮৫০-এ বৃদ্ধি করার কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, এটি দেশকে টুকরো করার একটি ষড়যন্ত্র। এর ফলে কোচবিহার বা দার্জিলিংয়ের মতো জেলাগুলো ভবিষ্যতে নিজস্ব পরিচয় হারাতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

ভোটের মুখে একদিকে যেমন দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সক্রিয়, অন্যদিকে তেমনই একে 'রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র' হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের ঠিক আগে এই টানাপোড়েন বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে তৃণমূল সুপ্রিমোর দাবি, কেন্দ্রীয় শক্তির ভয় দেখিয়ে তাঁকে থামানো যাবে না এবং আগামিতে ফের তাঁদের সরকারই ক্ষমতায় আসবে।

                                                                                                                   -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর