নতুন বছরের শুরুতেই প্রকৃতির দ্বিমুখী রূপ দেখছে বাংলা। একদিকে যখন বৈশাখের তপ্ত দুপুরে রোদের তেজে নাজেহাল সাধারণ মানুষ, ঠিক তখনই আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর শোনাল স্বস্তির খবর। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের আকাশ আংশিক মেঘলা। তবে এই স্বস্তি কি কেবলই সাময়িক? না কি উইকেন্ডে ফিরবে সেই চেনা অস্বস্তিকর গরম?
আরও পড়ুন তীব্র গরমে স্বস্তি দিতে বাংলায় Hitachi-র নতুন ২০২৬ রেঞ্জ, ব্যবসার প্রসারে বড় ঘোষণা ‘Bosch’-এর
আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একটি অক্ষরেখা মণিপুর থেকে রাজস্থান পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে, যা সরাসরি বাংলার ওপর দিয়ে গিয়েছে। এর টানে সাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে ঢুকছে, যার জেরে আজ শুক্রবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বিকেলের পর কলকাতাতেও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির হাত ধরে সাময়িক শীতলতার আশা দেখছেন শহরবাসী।
বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও আবহাওয়া দপ্তর কিন্তু সতর্কবার্তা দিচ্ছে। আজ ও কাল সাময়িক স্বস্তি মিললেও, শনিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে আবহাওয়া আবারও শুষ্ক হতে শুরু করবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী সোমবারের মধ্যে কলকাতার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি থেকে লাফিয়ে ৩৬ ডিগ্রিতে পৌঁছে যেতে পারে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে পারদ ছোঁবে ৪০ ডিগ্রির ঘর। ফলে বৃষ্টির রেশ কাটতে না কাটতেই বৈশাখের চিরাচরিত আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি আবারও ফিরে আসবে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও ঝড়বৃষ্টির দাপট জারি থাকবে। আজ দার্জিলিং, কালিম্পং ও জলপাইগুড়িতে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শনিবার এই বৃষ্টির পরিমাণ আরও বাড়বে এবং কিছু এলাকায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতাও দেওয়া হয়েছে। তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে তাপমাত্রার খুব বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই।
পরিশেষে বলা যায়, বৈশাখের এই শুরুতে প্রকৃতি যেন লুকোচুরি খেলছে। আজকের বিকেলের বৃষ্টি আপনাকে সাময়িক শান্তি দিলেও, আগামী এক সপ্তাহ ফের তীব্র গরম ও অস্বস্তির মোকাবিলা করতে হবে। তাই রোদে বেরোনোর সময় অবশ্যই বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করুন।
-জ্যোতি সরকার