নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, রাজনৈতিক উত্তাপের পাশাপাশি জনমনে বাড়ছিল একরাশ অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে বিচারাধীন বহু ভোটারের ভোটাধিকার নিয়ে যে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে উদ্বেগ ছিল তুঙ্গে। সেই জট কাটিয়ে এবার ঐতিহাসিক নির্দেশ দিল দেশের শীর্ষ আদালত। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ে বড়সড় স্বস্তি পেলেন কয়েক হাজার ভোটার।
আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র সাপেক্ষে বিচারাধীন ভোটাররা এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। তবে তার জন্য সময়সীমা অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, যাঁদের নাম ২১ এপ্রিলের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল থেকে অনুমোদিত হবে, তাঁরাই ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। একইভাবে, যাঁরা ২৭ এপ্রিলের মধ্যে ছাড়পত্র পাবেন, তাঁরা ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন নন্দীগ্রামে বড় 'স্বস্তি' পবিত্রের! আপাতত গ্রেফতারি নয়, জানাল হাইকোর্ট
আদালত আরও স্পষ্ট করেছে যে, এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যাঁদের নাম ভোটাধিকারের জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে, নির্বাচন কমিশনকে তাঁদের জন্য একটি পৃথক 'সাপ্লিমেন্টারি' বা অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করতে হবে। যাতে করে বুথে গিয়ে ভোট দিতে এই ভোটারদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়।
আদালতের রায় যেমন স্বস্তির, তেমনই এতে রয়েছে কঠোর সময়সীমার বাধ্যবাধকতা। শীর্ষ আদালত সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যদি কোনও আবেদনকারী নির্দিষ্ট ডেডলাইনের (২১ ও ২৭ এপ্রিল) মধ্যে ট্রাইব্যুনালের ছাড়পত্র পেতে ব্যর্থ হন, তবে চলতি নির্বাচনে তাঁরা আর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। ফলে শেষ মুহূর্তের এই দৌড়ে ট্রাইব্যুনালের দ্রুত সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশকে স্বাগত জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দীর্ঘদিনের আইনি লড়াইয়ের এই সাফল্যকে উৎসর্গ করে তিনি বলেন, "এটা আমাদের মামলার রায়, মা-মাটি-মানুষের জয়।" আদালতের এই হস্তক্ষেপকে রাজ্যের শাসক শিবির তাদের নৈতিক জয় হিসেবেই দেখছে।
আদালত রাস্তা পরিষ্কার করে দিলেও বাস্তবে এটি কার্যকর করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। হাতে সময় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। কয়েক হাজার আবেদনকারীর নথি যাচাই করে নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়া ট্রাইব্যুনালের জন্য এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। এখন দেখার বিষয়, কতজন ভোটার এই স্বল্প সময়ের মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বুথমুখী হতে পারেন এবং নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে এই ভোটাররা কতটা প্রভাব ফেলতে সক্ষম হন।
-দিশা দাস