সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের আগে জলঙ্গিতে বড় ভাঙন, তৃণমূল ছাড়লেন আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল

ভোটের আগে জলঙ্গিতে বড় ভাঙন, তৃণমূল ছাড়লেন আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে, ঠিক তার মধ্যেই মুর্শিদাবাদের জলঙ্গিতে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। বহুদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে, বুধবার রাতে, জলঙ্গির কাঁটাবাড়িতে  সাংবাদিক বৈঠক করে দল ছাড়ার ঘোষণা করলেন প্রাক্তন বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক মণ্ডল। প্রায় ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানলেন না ঠিকই, তবে তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন তিনি।

 

আরও পড়ুন ৫৪৩ না ৮৫০? সংরক্ষণ বিলের আড়ালে আসন বাড়ানো নিয়ে জল্পনা!

 

দল ছাড়ার পাশাপাশি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন তিনি। রাজ্জাক মণ্ডলের কথায়, "আমার দুঃখ একটাই, দলের নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কয়েকদিন আগে জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড়ে অনুষ্ঠিত জনসভায় বলেছেন, আমার নামে অস্বচ্ছতার অভিযোগ রয়েছে, সেই কারণে আমাকে টিকিট দেওয়া হয়নি। এই মন্তব্য আমার ৪৩ বছরের রাজনৈতিক জীবনকে কলুষিত করেছে।" তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “কারা আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করল এবং কেন কোনও আলোচনা ছাড়াই আমাকে বদনাম করা হল?” 

একইসঙ্গে প্রার্থী বাছাই নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। রানিনগরের প্রার্থী সৌমিক হোসেনকে নিশানা করে তাঁর দাবি, “সৌমিক নিজেকে ডোমকল মহকুমার নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। সেই কারণেই বেলডাঙ্গা থেকে বাবর আলি ও ডেবরা থেকে হুমায়ুন কবিরকে বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রার্থী করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেছেন, 'ওরা জিতলেও এখানে থাকবে না, তাদের অনুপস্থিতিতে সৌমিকই নেতাগিরি করবে।' যদিও পালটা সৌমিক হোসেন বলেছেন, “টিকিট দেওয়ার আমি কেউ নই, উনি প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এসব বলছেন।”

রাজ্জাক মণ্ডল  জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে রানিনগর কেন্দ্রে দল পিছিয়ে থাকা সত্ত্বেও সৌমিককে কো-অর্ডিনেটর করা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, "আইপ্যাক আমার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমি রাজি হইনি বলেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।" তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, “ডোমকল মহকুমার তিনটি আসনেই এবারে হারবে‌ তৃণমূল।”

 দল ছাড়লেও রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন না - এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্জাক। তিনি বলেছেন, "আমি সাধারণ ভোটার হিসেবেই ভোট দেব। তৃণমূল বা অন্য কোনও দল, যাকে ইচ্ছা ভোট দিতে পারি।" যদিও নির্বাচনের আগে নতুন দলে যোগ দেবেন না বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

পরিশেষে বলা যায়, ভোটের ঠিক আগে এই দলত্যাগ এবং অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৃণমূলের সংগঠনে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখন বড় প্রশ্ন। জলঙ্গি-সহ গোটা মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী সমীকরণে এই ঘটনা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।

                                                                                              -শ্রেয়শ্রী সামন্ত

পরবর্তী খবর