সর্বশেষ সংবাদ
৫৪৩ না ৮৫০? সংরক্ষণ বিলের আড়ালে আসন বাড়ানো নিয়ে জল্পনা!

৫৪৩ না ৮৫০? সংরক্ষণ বিলের আড়ালে আসন বাড়ানো নিয়ে জল্পনা!

বৃহস্পতিবার লোকসভায় মহিলাদের জন্য সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করেছে মোদী সরকার। বিলটি সংসদে তোলার আগেই বিষয়টি নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

 

আরও পড়ুন কর্পোরেট দুনিয়ায় নতুন চমক: চালু হলো দেশের প্রথম ‘ওয়ার্কপ্লেস হ্যাপিনেস অ্যাওয়ার্ডস’

 

 তিনি নিজস্ব সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম-এ লেখেন "আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের বিশেষ অধিবেশনে আমাদের দেশ নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করতে চলেছে। আমাদের মা-বোনেদের প্রতি শ্রদ্ধা মানেই দেশের প্রতি শ্রদ্ধা- এই ভাবনাকে পাথেয় করেই আমরা অত্যন্ত দৃঢ় ভাবে এই পথে এগিয়ে চলেছি। আপনারা নিজেদের উজ্জ্বল কিরণ দিয়ে বিশ্বকে আলোকিত করুন"।

সুএের খবর, সম্প্রতি সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। মোদী সরকার এই অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল, আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত বিল এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল আইন সংশোধনী বিল। মূলত মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে।

তবে এই প্রস্তাবকে ঘিরে বিরোধী শিবির জানিয়েছে, বিলগুলির কিছু দিককে সমর্থন করলেও সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রের উদ্যোগের বিরোধিতা করা হবে। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই সংসদে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ চালুর প্রস্তাবে তারা নীতিগতভাবে সম্মত হলেও, এর সঙ্গে যুক্ত আসন পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া ভাবে বিরোধিতা করা হবে।

এই বিষয়ে বুধবার নয়াদিল্লিতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে। সেখানে বিরোধী দলগুলির সংসদীয় নেতৃত্ব একত্রিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। বৈঠকে সর্বসম্মতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতে লোকসভার বর্তমান আসন সংখ্যা ৫৪৩ অপরিবর্তিত রেখে যদি মহিলা সংরক্ষণ কার্যকর করা হয়, তাহলে সেই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হবে।
কিন্তু একই সঙ্গে বিরোধীরা স্পষ্ট করে দিয়েছে, যদি মহিলা সংরক্ষণের আড়ালে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ৫৪৩ থেকে প্রায় ৮৫০ করার চেষ্টা করা হয়, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। সেক্ষেত্রে সংসদের ভিতরেই দাঁড়িয়ে তারা এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে, মহিলা সংরক্ষণ ইস্যুতে নীতিগত সমর্থন থাকলেও, ডিলিমিটেশন প্রসঙ্গে কেন্দ্র ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে বলেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

                                                                                                                                                          -স্পন্দন পাল

পরবর্তী খবর