সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের মুখে ফের ইডির চাপে শাসকদল! জেলমুক্তির পর ফের অস্বস্তিতে পার্থ, সিজিও-তে নথি পাঠালেন সুজিত বসু

ভোটের মুখে ফের ইডির চাপে শাসকদল! জেলমুক্তির পর ফের অস্বস্তিতে পার্থ, সিজিও-তে নথি পাঠালেন সুজিত বসু

জেল থেকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পেলেও প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের পিছু ছাড়ছে না ED। শনিবার সাতসকালেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাকতলার বাসভবনে হানা দিলেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। প্রায় একই সময়ে নিউটাউনে নিয়োগ দুর্নীতির অন্যতম অভিযুক্ত মিডলম্যান প্রসন্ন রায়ের অফিসেও শুরু হয় তল্লাশি। সব মিলিয়ে আজ শহরজুড়ে ফের ইডি-র তৎপরতা তুঙ্গে।

সূত্রের খবর, গত নভেম্বর মাসে জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর SSC মামলার তদন্তে নথিপত্র যাচাইয়ের জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে তিনবার তলব করেছিল ইডি। কিন্তু প্রতিবারই তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছেন। এমনকি আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বারবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তিনি। ইডি-র দাবি, তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া আর ঝুলিয়ে রাখা সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই আজ তাঁর বাসভবনে পৌঁছে গিয়েছেন আধিকারিকরা।

 

আরও পড়ুন ভোটের মুখে ডালি ভরা প্রতিশ্রুতি, শাহের ‘সংকল্প পত্র’ কি ইভিএমে ম্যাজিক দেখাবে?

 

নিয়োগ দুর্নীতির আঁচ লেগেছে পুরসভাগুলিতেও। পুর-নিয়োগ মামলায় আজই সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল মন্ত্রী সুজিত বসু এবং রথীন ঘোষকে। তবে সুজিত বসু নিজে হাজিরা না দিয়ে ইডি দপ্তরে পাঠিয়েছেন তাঁর ছেলে সমুদ্র বসুকে। জানা গিয়েছে, তদন্তকারীদের প্রয়োজনীয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি ছেলের হাত দিয়েই পাঠিয়েছেন মন্ত্রী।

রাজ্যে যখন ভোটের হাওয়া তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়েই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই জোড়া অভিযান ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। প্রসন্ন রায়ের নিউটাউনের অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কি নতুন করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে? নাকি নতুন কোনো বড় নথির হদিশ পেল কেন্দ্রীয় সংস্থা, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

বর্তমানে নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ঘিরে রেখেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভেতরে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ। একদিকে শারীরিক অসুস্থতার কারণ, অন্যদিকে তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ, এই দুইয়ের টানাপোড়েনে প্রাক্তন মন্ত্রীর অস্বস্তি যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য। এই সাঁড়াশি চাপের মুখে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জল কতদূর গড়ায় এবং শাসকদলের অন্যান্য হেভিওয়েটরা কী অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার।

                                                   -দিশা দাস

পরবর্তী খবর