সর্বশেষ সংবাদ
একটি স্বর্ণযুগের অবসান! ১০৬ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পদ্মশ্রী ডাঃ মণি কুমার ছেত্রী

একটি স্বর্ণযুগের অবসান! ১০৬ বছরে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন পদ্মশ্রী ডাঃ মণি কুমার ছেত্রী

বাংলার চিকিৎসা জগতের একটি উজ্জ্বল নক্ষত্র খসে পড়ল। দীর্ঘ ১০৬ বছরের বর্ণময় জীবনের অবসান ঘটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি দিলেন প্রবাদপ্রতিম হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ মণি কুমার ছেত্রী। রবিবার রাতে বালিগঞ্জ প্লেসের নিজের বাসভবনেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্যের চিকিৎসক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ।

কিংবদন্তি এই চিকিৎসকের প্রয়াণে গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক শোকবার্তায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, "প্রথিতযশা চিকিৎসক ডা. মণি ছেত্রীর প্রয়াণে আমি শোকাহত। বাংলা তথা ভারতের চিকিৎসা জগতে একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি ও তাঁর পরিবার তথা অগণিত ছাত্রছাত্রী-রোগী-গুণমুগ্ধদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাই।"

 

আরও পড়ুন বেহালা পশ্চিমে ভোটের আগে ধুন্ধুমার! বিজেপি অফিস ভাঙচুরের অভিযোগে বিড়ম্বনায় রত্না চট্টোপাধ্যায়, কড়া পদক্ষেপ কমিশনের

 

১৯২০ সালে দার্জিলিংয়ের পাহাড়ে জন্ম নেওয়া মণি ছেত্রী ছিলেন মেধা ও মানবিকতার এক অনন্য মিশেল। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডাক্তারি পাশ করার পর তিনি লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অফ ফিজিসিয়ানস থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। তবে বিদেশের ক্যারিয়ারের মায়া কাটিয়ে তিনি ফিরে এসেছিলেন নিজের মাটির টানে। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর ব্যক্তিগত চিকিৎসক হিসেবে তিনি যেমন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন, তেমনি সাধারণ মানুষের কাছেও তিনি ছিলেন এক ভরসার নাম।

ডাঃ মণি ছেত্রীর নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালের নাম। এই হাসপাতালের অধিকর্তা থাকাকালীন তিনিই প্রথম রাজ্যে ইনটেনসিভ থেরাপি ইউনিট বা আইটিইউ (ITU) চালু করেন। তাঁর হাত ধরেই কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সরকারি স্তরে পূর্ণতা পায়। চিকিৎসা শাস্ত্রে তাঁর এই অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।

বয়স ১০০ পার করলেও দমে যাননি এই চিরতরুণ চিকিৎসক। মাত্র দু’বছর আগেও অর্থাৎ ১০৪ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি নিয়মিত চেম্বারে বসে রোগী দেখতেন। দিন পনেরো আগে বাড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও শেষরক্ষা হল না। বার্ধক্যজনিত কারণেই নিভে গেল এই জীবনপ্রদীপ।

ডাঃ মণি কুমার ছেত্রীর প্রয়াণে ভারতীয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি স্বর্ণযুগের অবসান হলো। তিনি শুধু একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থার এক নিঃস্বার্থ পথপ্রদর্শক এবং অগণিত চিকিৎসকের অনুপ্রেরণা। ১০৬ বছরের এই দীর্ঘ যাত্রাপথে তিনি যে চিকিৎসাসেবার আদর্শ রেখে গেলেন, তা বাংলার মানুষের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে। সোমবার এই মহান চিকিৎসককে শ্রদ্ধা জানাতে পশ্চিমবঙ্গ ডক্টর্স ফোরামের আহ্বানে রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কর্মস্থলে কালো ব্যাজ পরে দায়িত্ব পালন করবেন। কিংবদন্তি এই ‘লিভিং লিজেন্ড’-এর প্রয়াণে আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং তাঁর বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করি।

                                                                                                                                             -জ্যোতি সরকার 

পরবর্তী খবর