২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে উঠতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক তৎপরতা। বিশেষ করে নজর কেড়েছে কলকাতার হেভিওয়েট কেন্দ্র ভবানীপুর। সোমবার সকাল থেকেই এই এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার শুরু হয়েছে। তবে এবারের প্রচারে সবথেকে বড় চমক হলো মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঠিক পাশেই তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী হাকিমের সক্রিয় উপস্থিতি। হাতজোড় করে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।রাজনৈতিক ময়দানে প্রিয়দর্শিনী হাকিমের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। তবে এবারের নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূলের কো-অর্ডিনেটর হিসেবে এক বিশেষ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে বিএলও-২ (BLO-2) পর্যায়ের বৈঠক, সর্বত্রই তাঁর সক্রিয়তা চোখে পড়ার মতো। গত রবিবার রাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কর্মীদের নির্বাচনী 'ভোকাল টনিক' দেওয়ার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়েছেন প্রিয়দর্শিনী।নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে গিয়ে প্রিয়দর্শিনী জানান, ভবানীপুরেই তাঁর বড় হয়ে ওঠা। এখানকার মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে। বাবার হাত ধরে যেমন তিনি রাজনীতি শিখছেন, তেমনই এলাকার প্রতিটি বাড়ি এবং মানুষের সমস্যার কথা তিনি আগে থেকেই জানেন। তাঁর কথায়, এলাকার মানুষের আশীর্বাদ নিয়েই তিনি উন্নয়নের বার্তা বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন।
আরও পড়ুনঃসিস্টেমের শিকার অরূপ? ফরেন্সিক তদন্তে উঠে আসছে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেহেতু আগামী দিনে রাজ্যজুড়ে প্রচার কর্মসূচিতে ব্যস্ত থাকবেন, তাই ভবানীপুর কেন্দ্রের মূল দায়িত্ব তিনি অর্পণ করেছেন ফিরহাদ হাকিম ও সুব্রত বক্সির ওপর। সেই গুরুদায়িত্ব পালনে বাবার যোগ্য সহযোদ্ধা হিসেবে কাজ করছেন প্রিয়দর্শিনী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিম নিজের কেন্দ্র কলকাতা বন্দরে যতটা নিশ্চিন্ত, ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয়ের ব্যবধান বাড়াতে ততটাই মরিয়া হয়ে লড়াই করছেন এই বাবা-মেয়ে জুটি।পরিশেষে বলা যায়, ২০২৬-এর এই হাইভোল্টেজ নির্বাচনে প্রিয়দর্শিনী হাকিমের এই সক্রিয় ভূমিকা তৃণমূলের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণের এক বড় উদাহরণ। ঘরের মেয়ে হিসেবে ভবানীপুরের অলিগলি চষে ফেলে তিনি কতটা ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
-জ্যোতি সরকার