আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মর্মান্তিক মৃত্যুতে ঘনীভূত হচ্ছে রহস্য। হাসপাতালের ট্রমা কেয়ার সেন্টারের লিফট দুর্ঘটনায় অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্তের ভার নিয়েছে লালবাজারের হোমিসাইড শাখা। শনিবারই রাজ্য ফরেন্সিক দলের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন বিজেপির প্রার্থী তালিকা আসতেই ক্ষোভের বিস্ফোরণ! টিকিট না পেয়ে এবার সরব দিলীপ-পত্নী রিঙ্কু
তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে শেষবার অপারেশন থিয়েটারের সামনে দেখা গিয়েছিল অরূপবাবুকে। এরপর দীর্ঘ সময় ক্যামেরায় তাঁর আর কোনও হদিশ মেলেনি। ঠিক এক ঘণ্টা পর, ভোর ৫টা ১২ মিনিটে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ওয়ার্ডে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এই মাঝখানের ৫৬ মিনিট ঠিক কী ঘটেছিল? কেন উদ্ধার করতে এত দেরি হলো? এই ‘ব্ল্যাঙ্ক পিরিয়ড’-ই এখন তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু।
তদন্তে উঠে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য। লিফটি যেখানে আটকে গিয়েছিল, সেই বেসমেন্টের কোলাপসিবল গেটে তালা লাগানো ছিল। সেখানে ক্যানসার চিকিৎসার মূল্যবান ‘লিনাক’ মেশিন থাকায় নিরাপত্তার খাতিরেই এই ব্যবস্থা। কিন্তু জরুরি পরিস্থিতিতে:
সেই চাবি কার কাছে ছিল?
কেন সেই ব্যক্তিকে সময়মতো পাওয়া গেল না?
প্রাণ বাঁচাতে কেন তৎক্ষণাৎ তালা ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো না?
এই প্রশ্নগুলোই এখন পিডব্লিউডি (PWD) ইলেকট্রিক্যাল বিভাগ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ ভাস্কর গঙ্গোপাধ্যায় ও চিত্রাক্ষ সরকারের নেতৃত্বাধীন দল লিফটের যান্ত্রিক ত্রুটি খতিয়ে দেখছেন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুযায়ী লিফটের গায়ে জরুরি নম্বরগুলো লেখা ছিল কি না। অন্যদিকে, হোমিসাইড শাখার আধিকারিকরা শুক্রবার রাতের ডিউটি রোস্টার পরীক্ষা করছেন। ওই সময় কর্মরত জুনিয়র ডাক্তার, নার্স এবং বিশেষ করে চুক্তিভিত্তিক নিরাপত্তারক্ষীদের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে।
তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন এটি কেবল যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি এর পেছনে রয়েছে চূড়ান্ত মানবিক ও প্রশাসনিক গাফিলতি। লিফটের গতিবিধি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ফাঁকফোকর গুলো চিহ্নিত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেবে ফরেন্সিক দল। তবে কি ব্যবস্থার এই ভাঙনই একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নিল? উত্তরের অপেক্ষায় নিহতের পরিবার ও সাধারণ মানুষ।
-অঙ্কিতা পাল