শনিবার ব্রিগেডে রাজনীতির পারদ চড়ালেন বিজেপি নেতা তথা অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই শাসকদল এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ শানালেন তিনি। চেনা মেজাজে ডায়লগ দিলেন, আবার কখনও কড়া যুক্তিতে বিঁধলেন রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে।
বক্তব্যের শুরুতেই মেজাজ সেট করে দেন মিঠুন। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন যে বিজেপি ৫০০ টাকা দিয়ে লোক এনে সভা করছে - এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করে মিঠুন হাসতে হাসতে বলেন, “রাজ্যের প্রধান দাবি করেছেন বিজেপি নাকি ৫০০ টাকা দিয়ে লোক এনেছে। অথচ ওঁর মতে ১৫০০ টাকা দিয়েও নাকি এখন মানুষ জড়ো হয় না।” ভিড়ের দিকে আঙুল দেখিয়ে তিনি বুঝিয়ে দেন, এই জনসমুদ্র কেবল টাকার টানে আসেনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য ‘বিজেপি গলায় দড়ি দিয়ে মরুক’-এর পাল্টাও দেন মিঠুন। তীক্ষ্ণ কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “তাহলে সবাই কি এবার রেললাইনে মাথা দেবে?” এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা এবং হাসপাতাল থেকে বার্তা দেওয়া নিয়ে বিদ্রুপ করে মিঠুন বলেন, “আইসিইউ থেকেও আজকাল বক্তৃতা দেওয়া যায়। হাত ভেঙেছে, পা ভেঙেছে, এবার অন্য কিছু ভাঙবে।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে একটি অদ্ভুত প্রসঙ্গের অবতারণা করেন মিঠুন। এক ব্যক্তির ৩৮৯টি সন্তান থাকার দাবি নিয়ে তিনি বলেন, “বৈজ্ঞানিকভাবে এটা অসম্ভব, অথচ এই রাজ্যে এমন আজব তথ্যও সামনে আসছে।” পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তোপ দেগে মিঠুন হুঁশিয়ারি দেন, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ থাকে, তবে খেলা শেষ হতে মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে।”
বক্তব্যের শেষে কর্মীদের চাঙ্গা করতে নিজের সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপের আশ্রয় নেন মহাগুরু। জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি জলঢোরা নই, বেলেবোরা নই… বাকিটা আপনারাই বসিয়ে নিন।” এরপরই ব্রিগেডের মঞ্চ কাঁপিয়ে তাঁর নতুন হুঙ্কার “আমার নাম তুফান, বছরে দু’একবার আসি। যখন যাই, যারা নিজেদের ভগবান ভাবে তারা নিজেদের অস্তিত্ব খুঁজে বেড়ায়।”
সব মিলিয়ে মিঠুনের ‘তুফানি’ মেজাজে এদিন কার্যত উত্তাল হয়ে উঠল ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। কিন্তু মিঠুনের এই আক্রমণাত্মক ও ফিল্মি মেজাজের বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
-অঙ্কিতা পাল