বর্ধমানের শক্তিগড় মানেই জিভে জল আনা ল্যাংচা। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে পর্যটক থেকে সাধারণ যাত্রী সবারই গন্তব্য থাকে এখানকার মিষ্টির দোকানগুলো। কিন্তু সেই চেনা ছবিটা এখন বদলে যাচ্ছে। রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটের কারণে এবার শক্তিগড়ের আমড়া এলাকায় ল্যাংচার দোকানগুলোতে তালা ঝুলতে শুরু করেছে। করোনার কঠিন সময়ের পর এই প্রথম এমন নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়লেন ব্যবসায়ীরা।
আরও পড়ুন টলিপাড়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস! দেবের উদ্যোগে ৭০০০ টেকনিশিয়ান পাচ্ছেন 'স্বাস্থ্যসাথী'র সুরক্ষা
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, রান্নার গ্যাস বা জ্বালানির জোগান না থাকায় মিষ্টি তৈরি করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শুধু জোগানের অভাব নয়, কালোবাজারিও এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ১৯০০ টাকার কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার ২৩০০ থেকে ২৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছিল এতদিন। এখন সেই দাম বেড়ে ২৯০০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। চড়া দামে জ্বালানি কিনে ব্যবসা চালানো আর সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ঘোষ ও সুব্রত দত্তর মতো দীর্ঘদিনের ব্যবসায়ীরা। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দু-এক দিনের মধ্যে বাকি দোকানগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে।
দোকান বন্ধ হওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়ছে কয়েকশ কর্মীর ওপর। ১৭ বছর ধরে কাজ করা উজ্জ্বল সাহার মতো কর্মীরা এখন দিশেহারা। তারা জানিয়েছেন, করোনার লকডাউনের পর এই প্রথম এমনভাবে দোকান বন্ধ হলো। প্রতিদিনের আয়ের ওপর ভিত্তি করেই যাদের সংসার চলে, দোকান মালিকরা তাদের আপাতত আসতে বারণ করে দিয়েছেন। সন্ধ্যা রুইদাসের মতো কর্মীরা এখন কপালে চিন্তার ভাঁজ নিয়ে ভাবছেন, কাজ না থাকলে সংসার চলবে কীভাবে।
পরিশেষে বলা যায় শক্তিগড়ের ল্যাংচা শুধু একটি মিষ্টি নয়, এটি পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম এক ঐতিহ্য। সেই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বহু মানুষের রুটিরুজি। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকট যদি দ্রুত মেটানো না যায়, তবে শক্তিগড়ের এই ঐতিহাসিক মিষ্টি শিল্প যে গভীর অন্ধকারের দিকে তলিয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী ও কর্মীরা।
-জ্যোতি সরকার