মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেই ভারতের জন্য স্বস্তির খবর। হরমুজ প্রণালীতে আটকে থাকা ভারতীয় পণ্যবাহী জাহাজগুলোর জট কাটতে শুরু করেছে। শুক্রবার ও শনিবারের মধ্যে ভারতের দুটি গুরুত্বপূর্ণ এলপিজি ট্যাঙ্কার 'শিবালিক' এবং 'নন্দাদেবী' সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে দেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। মূলত ভারত ও ইরান সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার পরেই এই জট কাটানো সম্ভব হয়েছে।
আরও পড়ুন ১০০ কোটি পাবেন ৯০ সেকেন্ডেই! মাত্র ১টি ভিডিও বদলে দিচ্ছে হাজারো ক্রিয়েটরের ভাগ্য!
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল, আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলার পর তেহরান হরমুজ় প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল। এর ফলে ভারতের অন্তত ২৮টি জাহাজ সেখানে আটকে পড়ে, যার প্রভাব সরাসরি দেশের জ্বালানি সরবরাহে পড়ছিল। কেন্দ্রীয় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের মতে, এই অচলাবস্থার কারণে ভারতের দৈনিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ৩০ শতাংশ ব্যাহত হচ্ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
এই সংকট নিরসনে ভারত সরকার দ্রুত সক্রিয় হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। পাশাপাশি বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও ইরানের বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চালান। এই আলোচনার পরেই ভারতের ইরানি রাষ্ট্রদূত মহম্মদ ফাথালি নিশ্চিত করেন যে, বন্ধু দেশ হিসেবে ভারতের কোনো জাহাজ চলাচলে বাধা দেবে না ইরান। সেই আশ্বাস মেনেই 'শিবালিক' প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি নিয়ে ভারতের পথে এগোচ্ছে। পাশাপাশি 'জগপ্রকাশ' নামে অন্য একটি জাহাজ ওমান থেকে আফ্রিকার দিকে রওনা হয়েছে।
সবমিলিয়ে ভারতের এই কূটনৈতিক জয় শুধু জ্বালানি সংকটই মেটাবে না, বরং ওই অঞ্চলে কর্মরত প্রায় ২৩ হাজার ভারতীয় নাবিক ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। যদিও এখনও বেশ কিছু জাহাজ প্রণালীর দুই প্রান্তে অপেক্ষায় রয়েছে, তবে ভারত সরকার আশাবাদী যে দ্রুতই সবকটি জাহাজ নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাবে। আপাতত রান্নার গ্যাসের জোগান নিয়ে সাধারণ মানুষের দুশ্চিন্তার আর কোনো কারণ নেই বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
-জ্যোতি সরকার