প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের সভার আগেই তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। একদিকে যখন কলকাতার রাজপথে তৃণমূল-বিজেপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল গিরিশ পার্ক, অন্যদিকে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট ও সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকায় গণপরিবহন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ায় চরম নাজেহাল সাধারণ মানুষ।
রবিবার ব্রিগেডে নরেন্দ্র মোদির হাইভোল্টেজ সভার ঠিক আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকা। ঘটনার কেন্দ্রে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি। তৃণমূলের অভিযোগ, মন্ত্রীর বাড়ি লক্ষ্য করে আচমকা ইট-পাথর ছুঁড়তে শুরু করে বিজেপি কর্মীরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দু-পক্ষের মধ্যে বেঁধে যায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ।
আরও পড়ুন একদিকে মোদীর মেগা ব্রিগেড, অন্যদিকে কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি! কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া?
মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ। দু-পক্ষই একে অপরকে লক্ষ্য করে বৃষ্টির মতো ইটের টুকরো ছুঁড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে আক্রান্ত হয় পুলিশও। ইটের ঘায়ে দু-পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর। বিশাল পুলিশ বাহিনী ও শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খাচ্ছেন। আপাতত সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ পুরোপুরি অবরুদ্ধ।
এদিকে ব্রিগেডের সভার প্রভাব পড়েছে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমাতেও। অভিযোগ, সভার জন্য রুটের অধিকাংশ যাত্রীবাহী বাস তুলে নেওয়ায় সাধারণ যাত্রীরা দিশেহারা। বিশেষ করে সুন্দরবনের প্রান্তিক এলাকা লেবুখালী বাস স্ট্যান্ডে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও বাসের দেখা মিলছে না। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে নিত্যযাত্রীরা পড়েছেন চরম বিপাকে।
জলপথেও ছবিটা একই রকম। নদী পারাপারের জন্য নৌকাগুলিতে তিল ধারণের জায়গা নেই। অভিযোগ উঠছে, ২০ টাকার ভাড়া একলাফে ৪০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। বড় গাড়ি না থাকায় ছোট গাড়িগুলিও লাগামহীন ভাড়া হাঁকছে।
সবমিলিয়ে, মোদির সভার আগে একদিকে যেমন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, অন্যদিকে যাতায়াতের সমস্যায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আকাশ ছুঁয়েছে।
-অঙ্কিতা পাল