সর্বশেষ সংবাদ
যুদ্ধের কোপ বাংলার মন্দিরে! বড়মায়ের ভোগ বন্ধ, সংকটে দক্ষিণেশ্বর-বেলুড় মঠ?

যুদ্ধের কোপ বাংলার মন্দিরে! বড়মায়ের ভোগ বন্ধ, সংকটে দক্ষিণেশ্বর-বেলুড় মঠ?

মধ্যপ্রাচ্যের বারুদের গন্ধ এবার পৌঁছে গেল বাংলার মন্দিরের হেঁশেলে। ইজরায়েল-লেবানন সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে রাজ্যের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে। এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র হাহাকারে কোথাও থমকে গিয়েছে কয়েক দশকের অন্নভোগের ঐতিহ্য, আবার কোথাও বিকল্প শক্তিই হয়ে উঠেছে মুশকিল আসান।

নৈহাটির বিখ্যাত বড়মা কালী মন্দিরে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত অন্নপ্রসাদ পান। কিন্তু রান্নার গ্যাসের অভাবে সাময়িকভাবে ভোগ বিতরণ বন্ধ রাখার কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দেশজুড়ে এলপিজি-র এই আকাল ভক্তদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। জ্বালানি সংকটের জেরে প্রসাদ পাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

নৈহাটির ছবিটা উদ্বেগের হলেও আশার আলো দেখাচ্ছে বেলুড় মঠ। এলপিজি-র জোগান কমলেও সেখানে অন্নকূট থমকে যায়নি। মঠের নিজস্ব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট এবং সোলার প্যানেল এই সংকটের সময়ে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। গোশালার বর্জ্য থেকে তৈরি জৈব গ্যাস ও সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহার করে সচল রাখা হয়েছে মঠের হেঁশেল।

 

আরও পড়ুন  শনিবার ব্রিগেডে মোদীর সভা! ভোর থেকেই কলকাতায় ট্রাফিক বিধিনিষেধ, কোন কোন রাস্তা এড়িয়ে চলবেন?

 

একই পথে হাঁটছে দক্ষিণেশ্বর মন্দিরও। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দক্ষিণেশ্বরে এখনই ভোগ বন্ধ হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। অন্যদিকে, আদ্যাপীঠ মন্দিরে দৈনিক ১০ হাজার মানুষের অন্নসংস্থানের জন্য এখন ডিজেলের উনুন ব্যবহারের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। মায়াপুর ইসকন আবার আগে থেকেই ৯০ শতাংশ রান্না কাঠে করায় এই বিশ্বজনীন সংকট থেকে তারা কার্যত মুক্ত।

কলকাতার ইসকন মন্দিরে পরিস্থিতি ঠিক কী? এই বিষয়ে কলকাতা ইসকনের ভাইস প্রেসিডেন্ট রাধারমণ দাস জানান, "আমাদের কাছে এক-দুদিনের মজুত গ্যাস আছে। এরপর আমাদেরও বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবতে হবে, যা জ্বালানি কাঠও হতে পারে।"

তবে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, "প্যানিক না করে এখন বেঁচে থাকার রাস্তা খোঁজা উচিত। গ্যাস ছাড়াও যে সব খাবার খেয়ে পেট ভরানো সম্ভব, সেগুলোর দিকে নজর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।"

দূর বিদেশের যুদ্ধ যে বাংলার ভক্তি আর ভোগের থালাতেও এমন টান ফেলবে, তা হয়তো কেউ কল্পনাও করেনি। তবে এই সংকট মন্দির কর্তৃপক্ষগুলোকে শিখিয়ে দিচ্ছে স্বনির্ভরতার পাঠ। যেখানে রান্নার গ্যাস অমিল, সেখানে বায়ো-গ্যাস, সৌরশক্তি বা কাঠের উনুনই হয়ে উঠছে আগামীর ভরসা।

                                                                                   - অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর