আজ সকালে রাজারহাটে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে রাজ্যের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে এই বৈঠকে বিজেপি, তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করা। তবে বৈঠক শেষে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কমিশনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আরও পড়ুন টলিউডে শোকের ছায়া: ঘুমের মধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন প্রবীণ অভিনেতা তমাল রায় চৌধুরী
তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্য তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বৈঠক থেকে বেরিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁর দাবি, ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া এবং বিশেষ করে মহিলা ভোটারদের সমস্যার কথা বলতে গেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার তাঁকে "ডোন্ট শাউট" (চিৎকার করবেন না) বলে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। চন্দ্রিমা অভিযোগ করেন যে, মহিলাদের প্রতি কমিশনের কোনো শ্রদ্ধা নেই এবং লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফিরহাদ হাকিমও অভিযোগ করেন যে, বিজেপি-র তৈরি করে দেওয়া একটি বিশেষ ধারণা বা 'পারসেপশন' অনুযায়ী কমিশন ভোটার তালিকা তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের দাবিতে সরব হয়েছে। বিজেপি প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে ১৬ দফা দাবি পেশ করেছে, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো এক বা দুই দফায় ভোট শেষ করা এবং প্রতি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন রাখা। সিপিএম এবং কংগ্রেসও একই সুরে রাজ্যে নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে। সিপিএম নেতা মহম্মদ সেলিম ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে 'নির্যাতন' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে কমিশন সব দলকেই আশ্বস্ত করেছে যে, নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ আইন মেনে এবং নিরপেক্ষভাবে।
সবমিলিয়ে বলা যায়, এদিনের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ অনেকটাই বেড়ে গেল। শাসক ও বিরোধী উভয় পক্ষই তাদের নিজ নিজ দাবি ও অভিযোগ কমিশনের সামনে তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজনৈতিক দলগুলোর এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগামী দিনে কমিশন কী পদক্ষেপ নেয় এবং রাজ্যে কত দফায় ভোটের ঘোষণা হয়।
-জ্যোতি সরকার