ধর্মতলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবস্থান বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যেই ঘটল অপ্রত্যাশিত ঘটনা। এই কর্মসূচি চলাকালীন সেখানে পৌঁছে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ দেখালেন একদল পার্শ্বশিক্ষক।
বিকেলে যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব ও মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন ধর্না মঞ্চে, তখনই পার্শ্বশিক্ষকদের একটি অংশ সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া পেশ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ। আন্দোলনকারীদের আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
আরও পড়ুন ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বোমাতঙ্ক! ই-মেলে হুমকির বার্তা ঘিরে হুলুস্থুল খাস কলকাতায়
বিক্ষোভ চলাকালীন মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি মন্তব্য করেন, "শান্ত হয়ে থাকতে পারলে থাকবেন। রাজনীতি করবেন না। এই জায়গা খোলামেলা বলে যা কিছু করা যাবে ভাববেন না।" পাশাপাশি তিনি আন্দোলনকারীদের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দাবি জানানোর পরামর্শও দেন।
আন্দোলনকারী সংগঠন 'শিক্ষক ঐক্য মঞ্চ'-এর দাবি, ২০০৯ সালে তাঁদের আন্দোলনের সময় স্থায়ীকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ২০১১ সালে রাজ্য মন্ত্রিসভায় ধাপে ধাপে স্থায়ীকরণের সিদ্ধান্ত হলেও গত ১৫ বছরে তার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১ মার্চ শিক্ষা দফতর থেকে নবান্নে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। যেখানে প্রাথমিকে ২৮ হাজার এবং উচ্চ প্রাথমিকে ৩২ হাজার টাকা বেতন ধার্য করার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব এখনও কার্যকর হয়নি। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রভিডেন্ট ফান্ড, চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু হলে আর্থিক সহায়তা এবং পরিবারের সদস্যকে চাকরি দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালাচ্ছেন পার্শ্বশিক্ষকরা। গত বৃহস্পতিবার তাঁদের 'কালীঘাট অভিযান' কর্মসূচিটি পুলিশ কলেজ স্ট্রিটে আটকে দিলে সেখানে দীর্ঘক্ষণ পথ অবরোধ চলে। সেই ধারাবাহিকতাতেই শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর ধর্না মঞ্চের সামনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
বিকেলের এই ঘটনার পর ধর্মতলা চত্বরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পার্শ্বশিক্ষকদের দাবি নিয়ে পরবর্তীকালে নবান্ন কোনো পদক্ষেপ করে কি না, এখন সেদিকেই নজর ওয়াকিবহাল মহলের।
-অঙ্কিতা পাল