দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান। ভারতের মানচিত্র থেকে এবার সরকারিভাবে বিদায় নিচ্ছে 'কেরালা' নামটি। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার হাই-ভোল্টেজ বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তে সিলমোহর দেওয়া হয়েছে।
কেরালা সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই দাবি জানানো হচ্ছিল যে, রাজ্যের নাম যেন স্থানীয় মালায়লাম ভাষার ঐতিহ্য মেনেই রাখা হয়। মালায়লাম শব্দ 'কেরাম' (অর্থাৎ নারকেল) এবং 'আলম' (অর্থাৎ জমি) থেকেই এই নামের উৎপত্তি। মূলত ১৯৫৬ সালে ভাষার ভিত্তিতে রাজ্যটি গঠিত হলেও ইংরেজি উচ্চারণের প্রভাবে এটি ‘কেরালা’ হিসেবেই পরিচিত ছিল। প্রায় ৭০ বছর পর সেই ভাষাগত অধিকার ফিরে পেল দক্ষিণের এই রাজ্য। এবার থেকে দক্ষিণ ভারতের এই পর্যটন ও শিক্ষার ভূস্বর্গ এখন থেকে পরিচিত হবে তার নিজস্ব মালায়লাম ভাষার আদি পরিচয়, 'কেরলম' নামে।
আরও পড়ুন চিকিৎসায় সুরের প্রলেপ: ‘কিডনি কেয়ার’-এর নতুন দিশা
তবে নাম বদলাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছেন তিরুবনন্তপুরমের সাংসদ শশী থারুর। এক্স হ্যান্ডেলের পোস্টে একটি মজার অথচ গভীর প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। থারুর জানতে চেয়েছেন, "রাজ্যের নাম তো 'কেরলম' হলো, কিন্তু এখানকার বাসিন্দাদের এখন কী বলে ডাকা হবে?" আগে যেখানে 'কেরালীয়' বা 'কেরালাবিটস' বলা হতো, এখন সেই পরিচয় কী হবে, তা নিয়ে এখন নেটপাড়ায় জোর চর্চা।
কেরালার এই সাফল্য সরাসরি আঙুল তুলে দিচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের দীর্ঘদিনের এক অমীমাংসিত দাবির দিকে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভাতেও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছিল। প্রস্তাব ছিল; রাজ্যের নাম হবে স্রেফ 'বাংলা'। প্রশ্ন জাগছে হয়ত কেন এই পরিবর্তনের দাবি? এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কিছু কারণ।
বর্ণমালার জটিলতা: ইংরেজি বর্ণমালার ক্রম অর্থাৎ Alphabetical Order অনুযায়ী 'West Bengal' (W) হওয়ার কারণে দিল্লির বৈঠকে আমাদের রাজ্যের ডাক আসত সবার শেষে। নাম 'Bangla (বাংলা) হলে তালিকার ওপরের দিকে আসার সুযোগ বাড়ত।
ভাষাগত ঐতিহ্য: ১৯৪৭ সালের সেই দেশভাগের যন্ত্রণা ও 'পশ্চিম' শব্দের বোঝা সরিয়ে নিজেদের ভাষাগত স্বকীয়তা তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য।
কেরালা আজ তার মালায়লাম শিকড়ে ফিরে গেল। কিন্তু আমাদের পশ্চিমবঙ্গের সেই 'বাংলা' হওয়ার প্রস্তাবটি এখনো প্রশাসনিক জটিলতায় ঝুলে আছে। দক্ষিণ ভারত যদি পথ দেখাতে পারে, তবে বঙ্গবাসীর প্রশ্ন, আমাদের রাজ্য কবে সরকারিভাবে শুধুই 'বাংলা' হয়ে উঠবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় বসে গোটা বঙ্গবাসী।
-দিশা দাস