সর্বশেষ সংবাদ
চিকিৎসায় সুরের প্রলেপ: ‘কিডনি কেয়ার’-এর নতুন দিশা

চিকিৎসায় সুরের প্রলেপ: ‘কিডনি কেয়ার’-এর নতুন দিশা

চিকিৎসাবিজ্ঞান বলে রোগ সারে ওষুধে, কিন্তু সুস্থ হওয়ার শক্তি জোগায় মন। এই দর্শনকে পাথেয় করেই সম্প্রতি কলকাতায় সম্পন্ন হল এক অনন্য সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা-"Roots and Rhythm: Where Music Meets Medicine"। অহিরীটোলা সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি, নেফ্রোকেয়ার ইন্ডিয়া লিমিটেড এবং দ্য কিডনি কেয়ার সোসাইটির সম্মিলিত উদ্যোগে কলকাতা ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সঙ্গীত ও চিকিৎসার এক অভূতপূর্ব সেতুবন্ধন তৈরি করল।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮৫০ মিলিয়ন মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং প্রতি ১০ জনে ১ জন প্রাপ্তবয়স্ক ক্রনিক কিডনি ডিজিজ (CKD)-এর শিকার। এই রোগের শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি মানসিক চাপ ও উদ্বেগ রোগীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। কিডনি কেয়ার সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্তের মতে, ভারতীয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বা মিউজিক থেরাপি রোগীদের উদ্বেগ প্রায় ৮% থেকে ৪৩% পর্যন্ত কমিয়ে দিতে সক্ষম। মূলত মানুষের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় সুরের নিরাময়ী ক্ষমতাকে তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্ত ও মধুমন্তী মৈত্র। এদিন মঞ্চের প্রধান আকর্ষণ ছিলেন বিশ্ববরেণ্য সরোদ সম্রাট ওস্তাদ আমজাদ আলি খান। তার সাথে তবলার জাদুকরী ছন্দে সঙ্গত করেন পণ্ডিত তন্ময় বোস। এছাড়াও প্রখ্যাত ভায়োলিন ব্রাদার্স অর্থাৎ দেবশঙ্কর ও জ্যোতিশঙ্কর রায় তাঁদের বেহালার সুরে শ্রোতাদের মোহিত করেন। তবে অনুষ্ঠানের বিশেষ চমক ছিল ভায়োলিন ব্রাদার্সের সঙ্গে খোদ ডাঃ প্রতিম সেনগুপ্তের ভায়োলিন বাদন, যা উপস্থিত দর্শকদের নজর কাড়ে।

 

আরও পড়ুন  প্রতিবেশী রাজ্যের বিচারক এনে দ্রুত মেটাতে হবে SIR কাজ: নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

 

উল্লেখ্য, কিডনি কেয়ার সোসাইটি কেবল সচেতনতা নয় প্রান্তিক মানুষের সেবায় সর্বদা নিয়োজিত। হাওড়ার ডে-কেয়ার ক্লিনিক ছাড়াও কলকাতার সায়েন্স সিটির কাছে খুব শীঘ্রই চালু হতে চলেছে সোসাইটির নিজস্ব ৪০ শয্যাবিশিষ্ট অত্যাধুনিক কিডনি হাসপাতাল।

সোসাইটির নিরন্তর প্রয়াসসমূহ:
* স্কুল ও বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং ক্যাম্প পরিচালনা।
* বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বই প্রকাশ ও সচেতনতামূলক লিফলেট বিলি।
* কমিউনিটি রেডিওর মাধ্যমে প্রচার এবং টেক মাহিন্দ্রা ফাউন্ডেশনের সাথে যৌথভাবে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, কিডনি জয়ী রোগী এবং কলকাতার প্রধান পূজা কমিটিগুলোর উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠানটি এক মহামিলন মেলায় পরিণত হয়। সংস্কৃতি আর সমাজসেবার এই যুগলবন্দী প্রমাণ করলসদিচ্ছা আর সুরের ছোঁয়ায় কঠিন রোগকেও জয় করা সম্ভব।

                                                - অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর