পশ্চিমবঙ্গ উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBCHSE)-এর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও গতি আনতে এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করতে এক বিশেষ পদক্ষেপ নিল আকাশ ইনস্টিটিউট। রাজ্যের উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য তারা একটি বিশেষায়িত একাডেমিক প্রোগ্রাম চালু করার ঘোষণা দিয়েছে। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের নতুন সেমিস্টার-ভিত্তিক ব্যবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করা এবং বোর্ড পরীক্ষার পাশাপাশি নিট (NEET) ও ডব্লিউবি-জি (WBJEE)-এর মতো প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্যের পথ প্রশস্ত করা।
আকাশ ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের মূল্যবান প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতেই এই নতুন প্রোগ্রামটি ডিজাইন করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকের বর্তমান চার-সেমিস্টার কাঠামোতে শিক্ষার্থীদের সঠিক দিশা দেখানোর জন্য এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থার পরিচালক শ্রী তিলক রাজ খেমকা। ৩৭ বছরেরও বেশি সময়ের একাডেমিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের ধারণাগত স্বচ্ছতা (Conceptual Clarity) এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে।
আরও পড়ুন "ভাতা তো আগেও দেওয়া হতো, আসল লক্ষ্য হোক চাকরি!" যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বেহালায় মুখ খুললেন পার্থ
সংশোধিত WBCHSE কাঠামো অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের চারটি সেমিস্টারের মাধ্যমে এগোতে হবে, যেখানে মূল্যায়নের ধরনও আলাদা। আকাশ ইনস্টিটিউটের এই প্রোগ্রামে সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি সাজানো হয়েছে:
অড সেমিস্টার (I ও III): এখানে মূলত এমসিকিউ (MCQ) এবং বিশ্লেষণাত্মক চিন্তাভাবনার ওপর ভিত্তি করে অবজেক্টিভ মূল্যায়ন করা হবে।
ইভেন সেমিস্টার (II ও IV): এই পর্যায়ে বিষয়ের গভীরতা এবং বর্ণনামূলক উত্তর লেখার দক্ষতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডেসক্রিপটিভ মূল্যায়ন করা হবে।
এই প্রোগ্রামের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর পাঠ্যক্রমটি সরাসরি অফিসিয়াল WBCHSE সিলেবাসের সাথে ম্যাপ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা বোর্ড পরীক্ষার প্রয়োজনীয় সব বিষয় কভার করার পাশাপাশি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্যও সমানভাবে তৈরি হতে পারবে। এছাড়া, দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য আকাশ ইনস্টিটিউট একটি 'দ্রুত সিলেবাস সমাপ্তি' (Early Completion) কৌশল গ্রহণ করেছে। ফেব্রুয়ারি মাসের চূড়ান্ত পরীক্ষার অনেক আগেই চতুর্থ সেমিস্টারের পাঠ্যক্রম শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা রিভিশন এবং মক টেস্টের জন্য পর্যাপ্ত সময় পায়।
সবমিলিয়ে বলা যায় আকাশ ইনস্টিটিউটের এই সময়োপযোগী উদ্যোগ পশ্চিমবঙ্গ বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে এবং আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। দ্রুত সিলেবাস শেষ করা, নিয়মিত মক টেস্ট এবং বোর্ড ও এন্ট্রান্সের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখার এই মডেল শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ারে এক নতুন দিশা দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং প্রবেশিকা পরীক্ষার প্রস্তুতির জগতে আকাশ ইনস্টিটিউটের দীর্ঘ ঐতিহ্য এবার উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের সাফল্যের শিখরে নিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
-জ্যোতি সরকার