সর্বশেষ সংবাদ
বিধানসভা ভোটের আগেই বড় লড়াই! বাংলার ৫ রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

বিধানসভা ভোটের আগেই বড় লড়াই! বাংলার ৫ রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের দিন ঘোষণা কমিশনের

রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার আগেই এক বড়সড় রাজনৈতিক লড়াইয়ের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। দিল্লির দরবারে বাংলার হয়ে কারা সওয়াল করবেন, তা ঠিক করার সময় চলে এসেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন আজ সকালে পশ্চিমবঙ্গসহ দেশের মোট ৩৭টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করে দিয়েছে। বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই নির্বাচন বাংলার রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে এক বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ১৬ই মার্চ পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি শূন্য আসনে ভোটগ্রহণ হবে। এই লড়াইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাচ্ছে চলতি মাসের শেষ থেকেই। আগামী ২৬শে ফেব্রুয়ারি ভোটের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ৫ই মার্চ এবং তা যাচাই করা হবে ৬ই মার্চ। যদি কেউ লড়াই থেকে সরতে চান, তবে ৯ই মার্চের মধ্যে নাম প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন। ১৬ই মার্চ ভোটের পরই জানা যাবে দিল্লির টিকিট শেষ পর্যন্ত কাদের হাতে গেল।

 

আরও পড়ুন শীতের বিদায় ঘণ্টা! কাল থেকেই চড়চড় করে বাড়বে পারদ, জানুন আবহাওয়া দপ্তরের লেটেস্ট আপডেট 

 

কিন্তু কেন এই হঠাৎ নির্বাচন? আসলে আগামী ২রা এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের পাঁচজন হেভিওয়েট সাংসদের মেয়াদ ফুরোচ্ছে। তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুব্রত বক্সী, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাকেত গোখলে। এছাড়া সিপিএমের দাপুটে নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের মেয়াদও একই দিনে শেষ হতে চলেছে। অন্যদিকে, মৌসম বেনজির নূর আগেই ইস্তফা দেওয়ায় সেই আসনটিও এখন ফাঁকা। এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদ পূরণ করতেই যুদ্ধের ডাক দিয়েছে কমিশন।

বিধানসভার বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার সমীকরণ অনুযায়ী, এই পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের জয় একপ্রকার নিশ্চিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে আছে পঞ্চম আসনটিতে। বাম এবং কংগ্রেসের কোনো বিধায়ক বিধানসভায় না থাকায় এবার বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের আসনটি বিজেপির দখলে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে শেষ মুহূর্তে শাসক দল কোনো বাড়তি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে লড়াই কঠিন করে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

সবমিলিয়ে রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজ্যসভার এই লড়াই এক অন্য মাত্রা যোগ করেছে। একদিকে যেমন তৃণমূল তাদের আধিপত্য বজায় রাখতে মরিয়া, অন্যদিকে বিজেপি চাইছে দিল্লির উচ্চকক্ষে তাদের শক্তি বাড়াতে। ১৬ই মার্চের এই লড়াই কি আগাম কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে আপাতত আমাদের অপেক্ষা করতে হবে মনোনয়ন পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত।

                      -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর