সর্বশেষ সংবাদ
মানচিত্র থেকে মুছে যাবে নীল রঙ! এক সকালে উঠে দেখলেন পৃথিবীতে জল নেই! প্রকৃতির দেওয়া শেষ সুযোগ আমরা হাতছাড়া করছি নাতো?

মানচিত্র থেকে মুছে যাবে নীল রঙ! এক সকালে উঠে দেখলেন পৃথিবীতে জল নেই! প্রকৃতির দেওয়া শেষ সুযোগ আমরা হাতছাড়া করছি নাতো?

কল্পনা করুন, একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার বাড়ির কল থেকে জলের বদলে বেরিয়ে আসছে শুধুই তপ্ত হাওয়া। জানলা দিয়ে বাইরে তাকাতেই দেখলেন নদীর স্রোত থেমে গেছে, সমুদ্রের নীল জলরাশি রাতারাতি ধূ ধূ মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। 

শুনতে কোনো সায়েন্স ফিকশন সিনেমার গল্প মনে হলেও, সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক অনলাইন ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে এমনই এক শিউরে ওঠা ভবিষ্যতের চিত্র তুলে ধরেছেন বিজ্ঞানীরা। পৃথিবীকে আমরা 'নীল গ্রহ' বলি তার বিশাল জলরাশির জন্য। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের যে দ্রুত হার, তাতে বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন মহাজাগতিক কোনো বিপর্যয় বা 'মলিকুলার বন্ড' ভেঙে যাওয়ার মতো ঘটনায় পৃথিবী থেকে জল চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। আর যদি সত্যিই পৃথিবীর মানচিত্র থেকে নীল রঙটা মুছে যায়, তবে কেমন হবে আমাদের অস্তিত্ব?

 

আরও পড়ুন রাজনীতি নয়, এবার ভক্তিপথে শাহ! বুধবার মায়াপুরে সরস্বতী ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীতে যোগ দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

বিজ্ঞানীদের মতে, জলের অভাব দেখা দেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে ভেঙে পড়বে মানুষের শরীর। হাসপাতালগুলোতে হাহাকার পড়ে যাবে, কিন্তু তৃষ্ণার্ত রোগীকে দেওয়ার মতো এক ফোঁটা জলও থাকবে না ডাক্তারদের কাছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে যে, এক বোতল পানীয় জল হয়ে উঠবে সোনার চেয়েও দামি। তৃষ্ণায় অন্ধ মানুষ তখন আইনের তোয়াক্কা করবে না, পানীয় জলের জন্য সুপারমার্কেটগুলোতে শুরু হবে রক্তক্ষয়ী দাঙ্গা।

জল নেই মানে বিদ্যুৎ নেই। কারণ বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে ঠান্ডা করার জন্য প্রয়োজন হয় বিশাল জলরাশি। ফলে গোটা পৃথিবী তলিয়ে যাবে অন্ধকারের অতলে। শুধু তাই নয়, সূর্যের উত্তাপ শোষণ করার মতো সমুদ্র না থাকায় পৃথিবীর তাপমাত্রা অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করবে। দিকে দিকে বন-জঙ্গল আর লোকালয়ে দাউদাউ করে আগুন জ্বলবে, কিন্তু তা নেভানোর কোনো উপায় থাকবে না। বাতাসের অক্সিজেন কমে আসায় শ্বাস নেওয়াও হয়ে উঠবে যন্ত্রণাদায়ক।

হয়তো অনেক পরে কঠিন প্রযুক্তির মাধ্যমে মাটির গভীর থেকে সামান্য জল মিলবে, কিন্তু ততক্ষণে পৃথিবী তার চেনা রূপ হারিয়ে ফেলবে। লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনাশ ঘটবে, বিলুপ্ত হবে অসংখ্য উদ্ভিদ ও প্রাণী। সেই বেঁচে থাকা হবে বেঁচে থাকা মানুষের কাছে চরম যন্ত্রণার আর গভীর অনুশোচনার। কারণ, আমরা সময় থাকতে প্রকৃতির কদর করিনি।

জল কোনো পণ্য নয়, জলই পৃথিবীর প্রতিটি জীবের বেঁচে থাকার একমাত্র রসদ। প্রকৃতি যেমন আমাদের দুহাত ভরে দেয়, তেমনই সবটা কেড়ে নিতেও কিন্তু সময় নেয় না। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে অপরাধী হয়ে থাকার আগে এখনই আমাদের রাশ টানতে হবে। পৃথিবী যেহেতু আমাদের, তাই একে রক্ষার দায়িত্বও আমাদেরই। মনে রাখবেন, আজকের এক ফোঁটা জলের অপচয় কালকের এক বিশাল মরুভূমির পথ প্রশস্ত করছে।

                             -দিশা দাস

পরবর্তী খবর