বাংলার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতে আর খুব বেশি দেরি নেই। তার আগেই হঠাৎ করে সোমবার দিল্লি সফর এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ ৩০ মিনিটের রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই ঝটিকা সফর এবং তড়িঘড়ি বৈঠক ঘিরে এখন তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। তবে কি নির্বাচনের আগে বড় কোনো চমক দিতে চলেছে গেরুয়া শিবির? প্রশ্ন উঠছে সব রাজনৈতিক মহলে।
সোমবার দুপুরেই তড়িঘড়ি দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজধানীতে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি পৌঁছে যান অমিত শাহের বাসভবনে। ঘড়ির কাঁটায় ঠিক ৩০ মিনিট কথা হয় তাঁদের মধ্যে। বিধানসভা ভোট যখন দোরগোড়ায়, তখন দুই শীর্ষ নেতার এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। যদিও এই বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে দুই পক্ষই মুখে কুলুপ এঁটেছে, তবে সূত্রের খবর বাংলায় আসন্ন লড়াইয়ের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হয়েছে এই ঘরেই।
আরও পড়ুন সাগরে নিম্নচাপের ভ্রুকুটি! শেষবেলায় কি তবে বৃষ্টির দাপটে ভিজবে বাংলা?
আসলে এই বৈঠকের নেপথ্যে বড় একটি কারণ হলো রাজ্যসভা নির্বাচন। চলতি বছর এপ্রিল মাসে পশ্চিমবঙ্গের ৫টি রাজ্যসভা আসন খালি হচ্ছে। বর্তমান বিধায়ক সংখ্যার বিচারে বিজেপির একটি আসন নিশ্চিত। সেই আসনে কে প্রার্থী হবেন এবং কার ওপর দল ভরসা রাখবে তা নিয়ে শুভেন্দুর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন শাহ। এর পাশাপাশি ২০২৬-এর কথা মাথায় রেখে এমন কোনো মুখকে বেছে নেওয়ার চেষ্টা চলছে, যাঁর প্রভাবে বিধানসভা নির্বাচনেও লাভ হবে বিজেপির।
বিজেপি সূত্রের খবর, দিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও রাজ্যসভার প্রার্থী নিয়ে যোগাযোগ রাখছেন। এর আগে ২০২২ এবং ২০২৩ সালে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এবারও তাঁর হাত ধরেই কোনো বড় নাম সামনে আসতে পারে বলে জল্পনা তুঙ্গে। এছাড়া দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও সম্প্রতি বাংলার সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যা এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব মিলিয়ে, শাহ-শুভেন্দুর এই আধঘণ্টার গোপন বৈঠক যে নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, তা এক প্রকার নিশ্চিত। রাজ্যসভার প্রার্থীর নাম ঘোষণা হওয়ার পর এই রহস্যের অবসান ঘটবে ঠিকই, কিন্তু বাংলার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী। এখন দেখার, দিল্লি থেকে ফেরা শুভেন্দু অধিকারীর ঝুলিতে বাংলার জন্য ঠিক কী চমক অপেক্ষা করছে।
-জ্যোতি সরকার