উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি আছে, আছে আদালতের সবুজ সংকেতও, তবুও জোটেনি কর্মসংস্থান। দীর্ঘ ৯ বছরের বঞ্চনার অবসান ঘটাতে সোমবার ফের রাজপথে নামলেন রাজ্যের NIOS ডিএলএড উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীরা। এদিন পশ্চিমবঙ্গ NIOS ডিএলএড সংগ্রাম মঞ্চের পক্ষ থেকে 'বিকাশ ভবন অভিযান'-এর ডাক দেওয়া হয়, যা ঘিরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সল্টলেকের করুণাময়ী চত্বর।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং (NIOS) থেকে ১৮ মাসের দূরশিক্ষার মাধ্যমে ডিএলএড কোর্স সম্পন্ন করেছিলেন রাজ্যের কয়েক হাজার চাকরিপ্রার্থী। প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে এই কোর্সের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘ আইনি লড়াই চলে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সুপ্রিম কোর্ট এই ১৮ মাসের কোর্সকে মান্যতা দিয়ে ১২৩৩ জনকে ২০২২-এর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু আদালতের ডেডলাইন পেরিয়ে গেলেও রাজ্য সরকার নিয়োগপত্র দেয়নি বলে অভিযোগ।
আরও পড়ুন ভোটার তালিকায় বড় বদল! 'বাংলার বাড়ি' বা 'আবাস যোজনার' সার্টিফিকেট আর চলবে না, সাফ জানাল কমিশন
সোমবার দুপুরে করুণাময়ী মোড় থেকে চাকরিপ্রার্থীরা বিকাশ ভবনের দিকে এগোতে শুরু করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে মিছিল আটকে দিলে সেখানেই বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তাঁরা। সরকারের উদাসীনতাকে কটাক্ষ করতে অনেক চাকরিপ্রার্থীকে হাতে 'থালা বাজিয়ে' প্রতিবাদ জানাতে দেখা যায়।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্ট তিন মাসের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বললেও রাজ্য প্রশাসন তা কার্যকর করেনি। এছাড়াও তাদের দাবি, অন্য সমস্ত রাজ্যে NIOS ডিএলএড উত্তীর্ণরা চাকরি পেলেও পশ্চিমবঙ্গেই কেবল বঞ্চনা চলছে। বিক্ষোভকারীদের ক্ষোভ, "শিক্ষিত বেকারদের চাকরির বদলে বেকার ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আমরা মেহনত করে পড়াশোনা করেছি সম্মানের চাকরির জন্য, ভাতার লাইনে দাঁড়ানোর জন্য নয়।" তারা দাবি করেন, ১২৩৩ জনের তাৎক্ষণিক নিয়োগের পাশাপাশি সমস্ত NIOS উত্তীর্ণদের যেন নিয়মিত (Regular) ডিএলএড প্রার্থীদের মতোই সমান সম্মানের সাথে ইন্টারভিউতে বসার সুযোগ দেওয়া হয়।
সর্বোপরি, নির্বাচনের ঠিক আগে এই চাকরিপ্রার্থীদের দাবি রাজ্য সরকারকে নতুন করে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। এখন দেখার, বিকাশ ভবন এই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।
-অঙ্কিতা পাল