সর্বশেষ সংবাদ
ভোটার তালিকায় বড় বদল! 'বাংলার বাড়ি' বা 'আবাস যোজনার' সার্টিফিকেট আর চলবে না, সাফ জানাল কমিশন

ভোটার তালিকায় বড় বদল! 'বাংলার বাড়ি' বা 'আবাস যোজনার' সার্টিফিকেট আর চলবে না, সাফ জানাল কমিশন

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা SIR-এর কাজ চলাকালীন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যকে দেওয়া একটি চিঠিতে তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এবার থেকে ভোটার তালিকায় নাম তোলা বা সংশোধনের ক্ষেত্রে 'প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ আবাস যোজন' বা রাজ্য সরকারের 'বাংলার বাড়ি' প্রকল্পের শংসাপত্র (Sanction Letter) পরিচয়পত্র বা ঠিকানার প্রমাণ হিসেবে আর গ্রহণ করা হবে না।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধনের কাজে নথিপত্র হিসেবে 'হাউজ অ্যালটমেন্ট সার্টিফিকেট' বা বাড়ি বরাদ্দের নথির সংস্থান থাকলেও, তার মধ্যে সরকারি অনুদান বা আর্থিক সাহায্যের এই প্রকল্পগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক নির্দেশকে হাতিয়ার করেই কমিশন এই কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। এর আগে রাজ্য সরকার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এই নথিগুলো নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি ছিল। অনেক নাগরিকই শুনানির সময় এই শংসাপত্রগুলো জমা দিচ্ছিলেন। সেই ধোঁয়াশা কাটাতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল কমিশনের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন, যার উত্তরে এই বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হলো।

 

আরও পড়ুন মার্চের শুরুতেই দিল্লির পথে বাংলার প্রার্থী তালিকা: এবার নবান্ন দখলে মোদীর নতুন প্ল্যান! কাদের নাম থাকছে এই তালিকায়?

 

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হতে চলেছে। তার আগে এই যাচাই প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করতে চাইছে কমিশন। জানানো হয়েছে, যাঁরা ইতিমধ্যেই এই ধরণের নথিপত্র জমা দিয়ে ফেলেছেন, তাঁদের তালিকা থেকে বাতিল না করে বিকল্প অন্য কোনো বৈধ নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতে পারে। তবে ভোটার তালিকায় কোনোভাবেই যাতে বিদেশি নাগরিকদের নাম না ঢোকে, সে বিষয়ে জেলা শাসকদের কড়া নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজের গাফিলতি মেলায় ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক আধিকারিককে সাসপেন্ডও করেছে কমিশন।

পরিশেষে বলা যায়, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। শুধুমাত্র নির্বাচন কমিশনের নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত সরকারি পরিচয়পত্র বা বৈধ ঠিকানার প্রমাণ থাকলেই তালিকায় নাম বহাল থাকবে। তাই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে সঠিক নথির অভাবে তাঁদের নাম বাদ না পড়ে।

                                                                                                                                                                                          -জ্যোতি সরকার

পরবর্তী খবর