২৬-এর বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে বাংলায় বড় কোনো চমক দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। শোনা যাচ্ছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই রাজ্যে বিশেষ পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে পদ্ম শিবির। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই রাজ্যের শাসকদলকে চাপে ফেলা এবং সাংগঠনিক শক্তির চূড়ান্ত মহড়া দেওয়া।
সূত্র মারফত খবর, এই মেগা প্ল্যানের প্রধান আকর্ষণ হতে চলেছে কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড। সেখানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করতে চলেছে বিজেপি, যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দলীয় নেতৃত্বের মতে, লোকসভা নির্বাচনের সাফল্যের পর এই ব্রিগেড সমাবেশই হবে বিধানসভা যুদ্ধের প্রকৃত সূচনা। শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্যরা এই সমাবেশের প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই বৈঠক শুরু করেছেন।
আরও পড়ুন বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএমে বিরাট ধাক্কা! দল ছাড়লেন তরুণ নেতা প্রতিকুর রহমান
জনসভার পাশাপাশি দিল্লির হাইকম্যান্ডের কাছে প্রার্থী তালিকা পাঠানো নিয়েও তৎপরতা তুঙ্গে। জানা যাচ্ছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহেই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের একটি প্রতিনিধি দল দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে দেখা করবেন। সেখানে প্রথম দফার সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা পেশ করা হবে। শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদারের তৈরি এই তালিকায় এবার একঝাঁক নতুন মুখের পাশাপাশি বেশ কিছু চমক থাকতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিজেপি সূত্রে খবর, এবারের প্রার্থী তালিকায় বড়সড় রদবদল হতে চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা বাড়াতে হেভিওয়েট নেতাদের পাশাপাশি ক্লিন ইমেজের তরুণ সমাজকর্মীদেরও ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বেশ কয়েকজন বর্তমান সাংসদকে এবার বিধানসভা লড়াইয়ের ময়দানে নামিয়ে চমক দিতে পারে দিল্লি। মূলত তৃণমূল গড়ের দখল নিতেই এই রণকৌশল গেরুয়া শিবিরের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই সম্ভাব্য ব্রিগেড সমাবেশ এবং আগাম প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা বিজেপির একটি সুপরিকল্পিত চাল। আসলে ভোটের আগেই প্রচার ময়দান দখল করতে চায় তারা। হাইকম্যান্ড সবুজ সংকেত দিলেই মার্চের মাঝামাঝি সময়েই প্রথম দফার প্রার্থী নাম ঘোষণা করে বড়সড় ধামাকা দিতে পারে ভাজপা (ভারতীয় জনতা পার্টি)।
-দিশা দাস