সর্বশেষ সংবাদ
জাপানে দেওয়া কথা রাখলেন অভিষেক: কলকাতায় বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের নামে রাস্তার নামকরণে আদালতের সিলমোহর

জাপানে দেওয়া কথা রাখলেন অভিষেক: কলকাতায় বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের নামে রাস্তার নামকরণে আদালতের সিলমোহর

কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এসপ্ল্যানেডের একটি রাস্তার নাম পরিবর্তিত হতে চলেছে। ঐতিহাসিক এসপ্ল্যানেড রো (ওয়েস্ট)-এর নতুন নামকরণ করা হচ্ছে প্রখ্যাত আইনজ্ঞ বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের নামে। গত বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্ট এই নামকরণে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। মূলত তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগ এবং বিচারপতি পালের পরিবারের আর্জিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল প্রশাসন।

ঘটনার সূত্রপাত গত বছর। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে জাপান সফরে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। সেই বৈঠকেই পরিবারের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল যে, কলকাতায় প্রয়াত বিচারপতির স্মরণে যেন কোনো রাস্তার নামকরণ করা হয়। পরিবারের সেই আবেগকে সম্মান জানিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের কথা দিয়েছিলেন যে তিনি এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

 

আরও পড়ুন শুভেন্দুর গড়ে ধাক্কা! পদ্ম ছেড়ে জোড়াফুলে ময়নার চন্দন, নিশানায় বিধায়ক অশোক দিন্দা

 

পরিবারের আর্জিতে সাড়া দিয়ে কলকাতা পুরসভা বেশ কয়েক মাস আগেই এসপ্ল্যানেড রো (ওয়েস্ট)-এর নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে আইনি এবং প্রশাসনিক কিছু প্রক্রিয়াগত কারণে হাইকোর্টের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। অবশেষে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে আদালত এই নামকরণে সবুজ সংকেত দেয়। এর ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই পরিবর্তনটি বাস্তবায়িত হলো।

বিচারপতি রাধাবিনোদ পাল আন্তর্জাতিক স্তরে অত্যন্ত সম্মানীয় একজন ব্যক্তিত্ব। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর টোকিও ট্রায়ালে তাঁর ভূমিকা। যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত ওই মামলায় তিনি যে নিরপেক্ষ এবং সাহসী রায় দিয়েছিলেন, তার জন্য আজও জাপানে তিনি অত্যন্ত শ্রদ্ধেয়। জাপানে তাঁকে ‘জাপানের বন্ধু’ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং টোকিওতে তাঁর নামে একটি জাদুঘরও রয়েছে।

সবমিলিয়ে কলকাতার রাজপথে বিচারপতি রাধাবিনোদ পালের নামাঙ্কিত এই সরণি শুধুমাত্র তাঁর স্মৃতিকেই রক্ষা করবে না, বরং বাঙালির আন্তর্জাতিক গৌরবকেও স্মরণ করিয়ে দেবে। প্রশাসনের এই উদ্যোগের মাধ্যমে যেমন বিদেশে দেওয়া একটি প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো, তেমনি একজন কৃতি সন্তানকে যথাযথ সম্মান জানাল শহর তিলোত্তমা।

                                                                                                                                                             -জ্যোতি সরকার

                                                                                                                                                               

পরবর্তী খবর