বাজেট ঘোষণার রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত সল্টলেকের স্বাস্থ্য ভবন চত্বর। রাজ্য সরকারের ঘোষিত ভাতা বৃদ্ধিকে ‘ভিক্ষা’ বলে প্রত্যাখ্যান করে শুক্রবার দুপুরে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বিক্ষোভে ফেটে পড়লেন হাজার হাজার আশা কর্মী। দাবি একটাই, সামান্য অনুদান নয়; চাই সম্মানজনক স্থায়ী বেতন।
বৃহস্পতিবার রাজ্য বাজেটে আশা কর্মীদের মাসিক ভাতা ১০০০ টাকা বৃদ্ধি এবং ৫ লক্ষ টাকার জীবন বিমার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু আন্দোলনকারী আশা কর্মীদের মতে, মুদ্রাস্ফীতির এই বাজারে এই সামান্য বৃদ্ধি আসলে তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতি এক চরম অবজ্ঞা। আন্দোলনকারীদের স্পষ্ট দাবি, ন্যূনতম মাসিক বেতন করতে হবে ১৫,০০০ টাকা। ১১ দফা দাবির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন চাই। এছড়াও আশা কর্মীদের সরকারি কর্মীর মর্যাদা দিতে হবে।
এদিন দুপুরে কয়েক হাজার আশা কর্মী স্বাস্থ্য ভবনে ডেপুটেশন জমা দিতে গেলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি দ্রুত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। পুলিশের তৈরি করা লোহার ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে গেলে শুরু হয় ব্যাপক ধস্তাধস্তি। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশ ‘অতি সক্রিয়’ হয়ে মহিলা কর্মীদের ওপর বলপ্রয়োগ করেছে। এমনকি ইউনিয়নের রাজ্য সম্পাদিকার দাবি, আন্দোলনে নামার কারণে অনেক কর্মীর বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে।
পুলিশি বাধার পর পিছু না হটে রাস্তার ওপরেই বসে পড়েন আন্দোলনকারীরা। এর ফলে স্বাস্থ্য ভবন ও তৎসংলগ্ন সল্টলেকের রাস্তায় দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ হয়ে যায়। মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী।
বিক্ষোভের পাশাপাশি মঞ্চ থেকে রাজ্য সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে কর্মীরা জানান, তাঁদের দাবি পূরণ না হলে এই আন্দোলন আমরণ চলবে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই বঞ্চনার উপযুক্ত জবাব তাঁরা ভোট বাক্সে দেবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।
বাজেট ঘোষণার পর যখন সরকারি স্তরে খুশির আমেজ, তখন সরাসরি রাজপথে নেমে আশা কর্মীদের এই বিদ্রোহ নবান্নের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
-অঙ্কিতা পাল