সর্বশেষ সংবাদ
ভোটের মুখে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প: উন্নয়ন না নির্বাচনী ট্রাম্প কার্ড?

ভোটের মুখে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প: উন্নয়ন না নির্বাচনী ট্রাম্প কার্ড?

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজতেই ফের বঙ্গ রাজনীতির উত্তপ্ত স্থল হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’, অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ‘ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প’, দুই শিবিরের পরিষেবার লড়াইয়ে যখন সরগরম হলদিয়ার পাড়, ঠিক তখনই নতুন করে আলোচনায় উঠে এল নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প। প্রশ্ন উঠছে, রেলের মানচিত্রে কি সত্যিই জায়গা পাবে নন্দীগ্রাম (Nandigram)? দেড় দশক ধরে ঝুলে থাকা স্বপ্ন কি এবার বাস্তবায়িত হবে?

প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের রেল প্রকল্পের ইতিহাস বেশ পুরনো। ২০০৯ সালে তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটা করে দেশপ্রাণ-নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের শিলান্যাস করেছিলেন। কিন্তু আজ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই প্রকল্প ‘বিশ বাঁও জলে’। জমি জট থেকে শুরু করে নানা প্রশাসনিক টালবাহানায় থমকে আছে কাজ। সম্প্রতি বইমেলার উদ্বোধনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এই আক্ষেপ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। এই পরিস্থিতিতে সম্প্রতি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আবেদনের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নন্দীগ্রাম থেকে কেন্দেমারী (নয়াচর) পর্যন্ত নতুন রেল সংযোগের অনুমোদন দিয়েছেন। যা নিয়ে রীতিমত সরগরম নন্দীগ্রাম।

 

আরও পড়ুন আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে শোকপ্রকাশ প্রধানমন্ত্রীর! মৃতদের পরিবার ও আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা

 

এই অনুমোদনের বিষয়ে তৃণমূলের স্থানীয় নেতা শেখ সুফিয়ান আক্রমণাত্মক বার্তা পেশ করেছেন । তাঁর দাবি, যেখানে পুরনো প্রকল্পই আলোর মুখ দেখল না, সেখানে নতুন করে কেন্দেমারি পর্যন্ত লাইন বাড়ানোর ঘোষণা কতটা বাস্তবসম্মত? তাঁর মতে, এটি ভোটারদের বিভ্রান্ত করার একটি কৌশল মাত্র। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, ভোটের মুখে এই ঘোষণা গেরুয়া শিবিরের জন্য একটি ‘ট্রাম্প কার্ড’। রেল সংযোগের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষের মন জয় করতে চাইছে বিজেপি। শুভেন্দু অধিকারীর গড়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের এই ‘উপহার’ ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

উল্লেখ্য, রেল প্রকল্পের পাশাপাশি নন্দীগ্রামে এখন চলছে পরিষেবার পাল্লাভারি করার পালাও। একদিকে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘সেবাশ্রয়’ শিবিরের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর স্বাস্থ্য শিবিরের ভিড়কে হাতিয়ার করে জনসমর্থন প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা।

সর্বোপরি বলা যায়, নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের বাস্তবায়ন নন্দীগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি, তবে দেড় দশক ধরে চলা এই প্রতীক্ষা কি এবার সত্যিই শেষ হবে? নাকি বরাবরের মতো নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রেলের বাঁশি মিলিয়ে যাবে রাজনীতির কোলাহলে, তা সময়ই বলবে।

                                                                                                  -অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর