সর্বশেষ সংবাদ
বেঙ্গালুরু-মুম্বাইকে পেছনে ফেলল কলকাতা: 'নেচার ইনডেক্স ২০২৪' র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের এক নম্বর শহর তিলোত্তমা

বেঙ্গালুরু-মুম্বাইকে পেছনে ফেলল কলকাতা: 'নেচার ইনডেক্স ২০২৪' র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের এক নম্বর শহর তিলোত্তমা

বেঙ্গালুরু বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে আইটি হাবের ছবি, আর মুম্বাই মানেই দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী। কিন্তু ভারতের ‘গবেষণার রাজধানী’ বা ‘রিসার্চ ক্যাপিটাল’ কোনটি? উত্তরটা শুনলে হয়তো অনেকে অবাক হবেন। তথ্য-প্রযুক্তির ইঁদুর দৌড় বা স্টার্টআপের চাকচিক্য নয়, বরং শান্ত ও নিভৃতে বিশ্ব জয় করছে আমাদের প্রাণের শহর কলকাতা।

সম্প্রতি প্রকাশিত 'নেচার ইনডেক্স ২০২৪' (Nature Index 2024) র‍্যাঙ্কিংয়ে সারা ভারতকে চমকে দিয়েছে কলকাতা। উচ্চমানের বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দিল্লি, মুম্বাই বা বেঙ্গালুরুর মতো মেগাসিটিকে পেছনে ফেলে দেশের এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে এই শহর। যেখানে অন্যান্য শহরগুলো ব্যস্ত কমার্শিয়াল অ্যাপ আর সার্ভিস সেক্টর নিয়ে, সেখানে কলকাতার মূল শক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে 'পিওর সায়েন্স' বা মৌলিক বিজ্ঞান।

 

আরও পড়ুন  ৫১ রাজনৈতিক দলের ৩০টিতেই নেই নারী প্রার্থী! বাংলাদেশে বাড়ছে মানবাধিকার সংকট

 

কলকাতার অলিগলিতে ছড়িয়ে আছে বিজ্ঞানের একেকটি পাওয়ার হাউস। এই শহরের সাফল্যের স্তম্ভগুলো হলো:
IACS (ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন ফর দ্য কাল্টিভেশন অফ সায়েন্স): দেশের প্রাচীনতম এই গবেষণা কেন্দ্রটি আজও বিজ্ঞানের উৎকর্ষ বজায় রেখেছে।
ISI (ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট): পরিসংখ্যান গবেষণার বিশ্বখ্যাত পীঠস্থান।
সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্স: মেঘনাদ সাহার স্মৃতি বিজড়িত এই প্রতিষ্ঠানটি পদার্থবিদ্যার জগতে এক অনন্য নাম।
বোস ইনস্টিটিউট: আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর নামাঙ্কিত এই প্রতিষ্ঠান আজও জীববিজ্ঞানের গবেষণায় দিশারি।
IISER কলকাতা: বিজ্ঞানের উন্নত শিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে যা নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বা জীবন বিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো প্রথম সারির বিজ্ঞান সাময়িকী (Journal) খুললেই এখন কলকাতার বিজ্ঞানীদের করা গবেষণার জয়জয়কার চোখে পড়ে।

কলকাতার এই সাফল্য কিন্তু রাতারাতি আসেনি। কয়েক দশক ধরে নীরবে তৈরি হওয়া একটি গভীর গবেষণা সংস্কৃতি আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত হচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী যেমনটা প্রায়ই বলেন, ভারত আজ আর বিদেশের প্রযুক্তির দিকে তাকিয়ে নেই, বরং বিদেশিরাই ভারতের অগ্রগতি দেখে অবাক হচ্ছে। কলকাতার এই ‘রিসার্চ মডেল’ সেই আত্মনির্ভর ভারতের অন্যতম বড় প্রমাণ।

বাঙালির পরিচয় শুধু কি মিষ্টি আর ফুটবলে? সময় এসেছে সেই ধারণা বদলে দেওয়ার। কলকাতা আজ বিশ্ব দরবারে ভারতের বুদ্ধিবৃত্তিক পরিচয়ের ঝান্ডা উড়িয়ে দিচ্ছে। তিলোত্তমার এই জয়যাত্রা কেবল বাংলার নয়, বরং সমগ্র ভারতের গর্ব। আইটি আর স্টার্টআপের ভিড়ে কলকাতা প্রমাণ করে দিল, মৌলিক বিজ্ঞানই হলো আসল শক্তির উৎস।

                                                                                                                                                     - অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর