ক্রিকেট মাঠে ভারত বনাম বাংলাদেশ লড়াই মানেই এখন এক অন্যরকম উত্তেজনা। তবে এবার মাঠের লড়াই শুরুর আগেই অন্যভাবে উত্তেজনা ছড়ালেন বাংলাদেশের ওডিআই অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ভারতকে হারানোর স্বাদ যে ওপার বাংলার ক্রিকেটারদের কাছে কতটা স্পেশাল, তা নিয়ে সরাসরি বড় মন্তব্য করে বসলেন তিনি। শুধু তাই নয়, বিসিবির কর্তাদের একাংশকে কটাক্ষ করতেও পিছপা হলেননা। যার জেরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে দুইদেশের ক্রিকেট মহলে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মিরাজ অকপটে স্বীকার করেছেন তাঁর মনের কথা। তিনি জানিয়েছেন, বিশ্বের যেকোনো দেশকেই হারানো আনন্দের, কিন্তু ভারতের বিপক্ষে জয়টা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের কাছে একদম অন্যরকম। মিরাজ বলেন, "আমরা যখন ভারতের বিপক্ষে জিতি, তখন আমরা সবচেয়ে বেশি খুশি হই।" এর পেছনে কারণ হিসেবে তিনি দুই দেশের ক্রিকেটীয় আবেগ এবং দর্শকদের আকাশচুম্বী প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন। বিশেষ করে, ভারতের মতো শক্তিশালী দলকে তাদের ঘরের মাঠে বা অন্য ভেন্যুতে হারানোটা দলের আত্মবিশ্বাসকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয় বলেই মনে করেন তিনি।
আরও পড়ুন মা কালী ও মা কামাখ্যার ভূমিকে জুড়ল দেশের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার: মালদহে মোদি
অনেকেই মনে করেছেন, মিরাজের এই আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে ভারতের বিপক্ষে তাঁর দুর্দান্ত ট্র্যাক রেকর্ড। বিশেষ করে ২০২২ সালের সেই ওয়ানডে সিরিজের কথা আজও ক্রিকেট প্রেমীদের মননে স্পষ্ট। যেখানে প্রায় নিশ্চিত হারা ম্যাচ থেকে একা হাতে ভারতকে জয়বঞ্চিত করেছিলেন মিরাজ। সেই সিরিজে তাঁর বীরোচিত সেঞ্চুরি এবং ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং আজও সমর্থকদের মনে আইকনিক হয়ে আছে। সম্ভবত সেই ঐতিহাসিক জয়ের তৃপ্তি থেকেই মিরাজ মনে করেন, ভারতকে হারানোই ক্রিকেটের সেরা প্রাপ্তি। আর তাঁর এই মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।
তবে কেবল ভারত নিয়ে নয়, বিসিবির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও মুখ খোলেন মিরাজ। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নিয়ে বিসিবি পরিচালক নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন তিনি। বিসিবি কর্তা দাবি করেছিলেন ক্রিকেটাররা ট্যাক্সের টাকায় চলেন। এর পাল্টা জবাবে মিরাজ সাফ জানিয়েছেন, "আমরা করদাতার টাকায় চলি না, বরং আমরা মাঠে খেলি বলেই বিসিবি স্পনসর এবং আইসিসি থেকে টাকা পায়।" এমনকি এই মন্তব্যের জেরে ক্রিকেটারদের মধ্যে এতটাই অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল যে, ওপার বাংলার ক্রিকেটার নিজেদের দেশের বিপিএল পর্যন্ত বয়কট করার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
অবশেষে মিরাজ এবং শান্তর মতো সিনিয়র ক্রিকেটারদের জোরালো প্রতিবাদে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বিসিবি। শোনা যাচ্ছে, বিতর্কিত মন্তব্য করার জেরে নাজমুল ইসলামকে তাঁর পদ থেকে নিষ্কাশিত করা হয়েছে। এর ফলে বিপিএল স্থগিত হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কেটেছে এবং টুর্নামেন্ট পুনরায় শুরু হয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে মিরাজ যেভাবে ক্রিকেটারদের অধিকার এবং সম্মান রক্ষায় সরব হয়েছেন, নিঃসন্দেহে তাতে মুগ্ধ দুই বাংলার ক্রিকেট ভক্তরা।
-দিশা দাস