রেল পরিষেবায় বিপ্লব ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকেই দেশের প্রথম ‘বন্দে ভারত স্লিপার’ ট্রেনের পথচলা শুরু হলো। শনিবার মালদহ টাউন স্টেশন থেকে হাওড়া-গুয়াহাটি (কামাখ্যা) রুটে এই ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মা কালী এবং মা কামাখ্যার ভূমিকে সংযুক্তকারী এই ট্রেনটি ভারতের রেল মানচিত্রে এক ঐতিহাসিক সংযোজন হিসেবে চিহ্নিত হলো।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী ট্রেনের বিভিন্ন কোচ ঘুরে দেখেন। সেখানে উপস্থিত স্কুলপড়ুয়াদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ সময় কাটান তিনি। শিশুদের পড়াশোনা, ট্রেনের অভিজ্ঞতা এবং তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে গল্প করতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্ম ছাড়ার আগে তিনি লোকো-পাইলটদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং ট্রেনের প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত দিকগুলি নিয়ে আলোচনা করেন।
রাজ্যে দু’দিনের সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের একাধিক রেল, সড়ক ও পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। এর মধ্যে ৩,২৫০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের প্রকল্প ছিল শুধুমাত্র মালদহের প্রশাসনিক সভার অংশ হিসেবে। রেলমন্ত্রক জানিয়েছে, এই নতুন স্লিপার ট্রেনটি উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে জোন দ্বারা পরিচালিত হবে।
আরও পড়ুন আদিবাসী নারীদের নিয়ে কংগ্রেস বিধায়কের বিতর্কিত মন্তব্যতে উত্তাল রাজনীতি
এই ট্রেনের মোট কোচ ১৬টি, ১১টি এসি থ্রি-টিয়ার, ৪টি এসি টু-টিয়ার এবং ১টি এসি ফার্স্ট ক্লাস কোচ। আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ পাল্লার রাতের যাত্রার জন্য প্রিমিয়াম পরিষেবা।
মালদহ টাউন স্টেশনে কর্মসূচি সম্পন্ন করে মোদি প্রশাসনিক সভায় যোগ দেন। সেই প্রশাসনিক সভার মঞ্চ থেকে প্রধানমন্ত্রী আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "আগে বিদেশের ট্রেনের ছবি দেখে আমরা আফসোস করতাম। আজ ভারতের মানুষ নিজেদের শ্রমে তৈরি বন্দে ভারতে চড়ছে। এখন বিদেশিরা ভারতের ট্রেনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অবাক হয়ে দেখে।" অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব, তিনি জানান, এই পরিষেবা চালুর ফলে দীর্ঘ দূরত্বের রাতের যাত্রা আরও আরামদায়ক, দ্রুত ও নিরাপদ হবে। পাশাপাশি তিনি পশ্চিমবঙ্গকে আরও বেশ কিছু ‘অমৃত ভারত’ এক্সপ্রেস উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
রেলমন্ত্রকের দাবি, হাওড়া-গুয়াহাটি রুটে যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর ফলে কেবল সাধারণ যাত্রী নয়, বরং কামাখ্যা মন্দিরে আসা পুণ্যার্থী এবং দুই রাজ্যের বাণিজ্যিক যাতায়াতেও গতি আসবে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের যোগাযোগ ব্যবস্থা এই প্রকল্পের মাধ্যমে আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
- অঙ্কিতা পাল