রাজনীতিবিদদের কাজ হলো সমাজের অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করা। কিন্তু যখন একজন জনপ্রতিনিধি নিজেই কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের নারীদের সম্মান নিয়ে প্রকাশ্য সভায় কুরুচিকর মন্তব্য করেন, তখন সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস বিধায়ক ফুল সিং বারাইয়া ঠিক এমনটাই করেছেন। আদিবাসী নারীদের সৌন্দর্য এবং ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে তার দেওয়া একটি বক্তব্য বর্তমানে গোটা দেশে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।
আরও পড়ুন ফের রণক্ষেত্র বেলডাঙা! জাতীয় সড়ক ও রেল অবরোধে বিপর্যস্ত জনজীবন, আক্রান্ত সংবাদমাধ্যম
সম্প্রতি একটি জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় ফুল সিং বারাইয়া প্রাচীন শাস্ত্রের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তিনি দাবি করেন যে, নির্দিষ্ট কিছু শাস্ত্রে সৌন্দর্য এবং ধর্ষণের যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, তার সাথে বর্তমান পরিস্থিতির মিল নেই। অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, আদিবাসী নারীদের মধ্যে এমন কী সৌন্দর্য আছে যা কাউকে প্রলুব্ধ করতে পারে? তার এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে আদিবাসী নারীদের অবমাননা করেছেন এবং ধর্ষণের মতো একটি ভয়াবহ অপরাধকে শারীরিক সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করে বিষয়টিকে হালকা করার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
এই বক্তব্যের ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই আদিবাসী সংগঠনগুলো এবং সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। বিরোধী দলগুলো একে কংগ্রেসের "নারী বিরোধী" মানসিকতা হিসেবে প্রচার করছে। সমালোচকদের মতে, সৌন্দর্যের মাপকাঠি দিয়ে কোনো নারীর সম্মান বিচার করা কেবল অন্যায় নয়, বরং এটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের আত্মমর্যাদায় চরম আঘাত। বিভিন্ন মহল থেকে বারাইয়ার পদত্যাগ এবং নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানানো হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের মন্তব্য সমাজে বিভেদ তৈরি করে এবং অপরাধীদের ভুল বার্তা দেয়।
গণতন্ত্রে বাকস্বাধীনতা থাকলেও তা অন্যকে অপমান করার অধিকার দেয় না। বিশেষ করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের নারীরা যারা বছরের পর বছর লড়াই করে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছেন, তাদের সম্পর্কে এই ধরণের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। একজন বিধায়ক হিসেবে ফুল সিং বারাইয়ার উচিত ছিল আরও দায়িত্বশীল হওয়া। এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, সমাজ হিসেবে আমরা কতটা এগিয়েছি তা কেবল বিজ্ঞানে নয়, বরং একে অপরের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধাবোধের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে দল তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেই দিকেই।
-জ্যোতি সরকার