সর্বশেষ সংবাদ
‘জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে বিজেপি-ইসি’, মেদিনীপুর থেকে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ‘রণহুঙ্কার’ অভিষেকের!

‘জীবিতদের মৃত দেখাচ্ছে বিজেপি-ইসি’, মেদিনীপুর থেকে ২০২৬ বিধানসভা ভোটের ‘রণহুঙ্কার’ অভিষেকের!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মেদিনীপুর কলেজিয়েট মাঠ থেকে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপি থেকে বাম এবং নির্বাচন কমিশন, সব পক্ষকেই একযোগে আক্রমণ শানালেন তিনি। পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, আগামী নির্বাচনে পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম মিলিয়ে ১৯-০ ফলের লক্ষ্য নিয়ে এগোবে তৃণমূল।

এইদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তৃতার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাজ্যের ভোটার তালিকা নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি ও দিল্লির নেতাদের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকায় SIR-এর নামে কারচুপি করছে। তাঁর দাবি, “বাংলার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। দিল্লি থেকে ২০০-৩০০ নাম যাচাইয়ের অবাস্তব চাপ দেওয়া হচ্ছে বিএলও-দের ওপর।” এদিন তিনি বাঁকুড়ার একটি উদাহরণ টেনে বলেন, সেখানে হাজার হাজার ফর্ম-৭ (নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম) সম্বলিত গাড়ি ধরা পড়েছে, যা তৃণমূল সমর্থকদের তালিকা থেকে সরানোর প্রমাণ।

এদিন ও সভামঞ্চে রীতিমতো চমক দেন অভিষেক। তিনি এমন তিন ব্যক্তিকে হাজির করেন, যাঁদের তালিকায় মৃত দেখানো হয়েছে। ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “কমিশনের গায়ে জ্বালা হচ্ছে যে আমি কীভাবে জীবিত মানুষদের মঞ্চে আনছি। শাহ আর জ্ঞানেশ কুমারদের (নির্বাচন কমিশনার) নির্দেশে এই অমানবিক কাজ চলছে।” তিনি সাফ জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার থাকতে বাংলার একটি মানুষের নামও ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাবে না।

 

আরও পড়ুন  বিশ্বের উচ্চতম মন্দির থেকে কালীঘাটে মা বগলা, বাংলাকে ১ নম্বরে আনতে মরিয়া মমতা!

 

এছাড়াও, এদিনের সভা থেকে নাম না করে শুভেন্দু অধিকারীকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, "জেল যাওয়ার ভয়েই মেদিনীপুরের গদ্দার অমিত শাহের পায়ে গিয়ে পড়েছিলেন।" তাঁর দাবি, সিবিআই এবং ইডির হাত থেকে বাঁচতেই বিরোধী দলনেতা দলবদল করেছেন। মেদিনীপুরের ভাবাবেগকে উস্কে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, যারা বেইমানি করেছে তাদের মানুষ ক্ষমা করবে না।


তৃণমূল সেনাপতির ভাষণে সবথেকে বড় চমক ছিল খড়গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর দাবি। প্রথমে নাম না করে অভিষেক দাবি করেন, হিরণ নাকি আবারও তৃণমূলে ফেরার জন্য তাঁর অফিসে গিয়ে দেখা করেছিলেন। এখানেই থেমে না থেকে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, প্রয়োজনে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ দেখিয়ে প্রমাণ করে দেবেন। লোকসভা ভোটের আগে এই বোমা মেদিনীপুরের বিজেপি শিবিরের অস্বস্তি বাড়াবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সর্বোপরি, জনসভার মঞ্চে দাঁড়িয়ে নাম না করে বিজেপি বিধায়কদের বিষয়ে করা এই দাবি তৃনমূল-বিজেপির দ্বন্দ্ব আরও বাড়িয়ে দিল।

                                                                                                                                                                                                  - অঙ্কিতা পাল

পরবর্তী খবর